ফর্সা হওয়ার ক্রিমে ভয়ংকর বিষ, বিএসটিআই’র সতর্কতা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি (Mercury) শনাক্ত করেছে। সংস্থাটি এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিএসটিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরীক্ষায় এসব ক্রিমে বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ পিপিএমের তুলনায় বহু গুণ বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
বিএসটিআই জানায়, অবৈধভাবে লাগেজ ও চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করা বিভিন্ন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বাজার থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডেই অস্বাভাবিক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হয়।
পরীক্ষায় পাকিস্তানের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম, নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম, নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম, নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ, মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করার এবং সন্দেহজনক পণ্যের তথ্য বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিএসটিআই সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।



































