রাজনীতির মূল্য দিচ্ছে কে, সাধারণ মানুষ?
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 30
আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নই। আমি একজন সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।
আমার ৪৫ বছরের জীবনে বাংলাদেশে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল দেখেছি। প্রতিবারই যেন একই দৃশ্য; মিছিল, আন্দোলন, সংঘর্ষ, মামলা, গ্রেপ্তার, আহত, নিহত এবং অসংখ্য পরিবারের কান্না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই মূল্য দেয় কারা?
রাজপথে থাকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, কর্মী ও সমর্থকেরা। তারাই আহত হন, কারাগারে যান, মামলার আসামি হন, কেউ কেউ প্রাণ হারান। আবার অনেক পরিবার বছরের পর বছর সেই ক্ষতির বোঝা বহন করে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আরেকটি দৃশ্যও আমরা বারবার দেখি, অনেক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আত্মগোপনে থাকতে হয়, এলাকা ছাড়তে হয়, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে যান, আবার অনেকে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। এই বাস্তবতা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কী বার্তা বহন করে?
আমার প্রশ্ন; এটাই কি একটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি?
আরও একটি প্রশ্ন আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের সন্তানরাই রাজপথের সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নেন। অথচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবারের সদস্যদের একই মাত্রায় সেই ঝুঁকি নিতে তুলনামূলকভাবে খুব কমই দেখা যায়। অনেক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা, কর্মজীবন বা ভবিষ্যৎকে নিরাপদভাবে গড়ে তোলার সুযোগ থাকে; দেশে বা বিদেশে। কিন্তু সাধারণ পরিবারের সন্তানেরাই অনেক সময় রাজনৈতিক সংঘাতের সরাসরি মূল্য দেয়।
আমি চাই, দেশের প্রতিটি তরুণ একবার নিজের পরিবারকে নিয়ে ভাবুক। যে নেতার জন্য আপনি জীবন বাজি রাখছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকুন বা না থাকুন, আপনার ভবিষ্যৎ, আপনার বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ এবং আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আপনাকেই নিতে হবে।
রাজনীতি অবশ্যই করবেন, অন্যায়ের প্রতিবাদও করবেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নিজের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎকে অন্ধভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।
আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা নয়; রাজনীতি মানে জনগণের সেবা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যে দেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, এলাকা ছাড়ার চিন্তা আসে, মামলা ও প্রতিশোধের ভয় তৈরি হয়; সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।
আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে শান্তিপূর্ণভাবে, বিরোধী মতকে শত্রু হিসেবে দেখা হবে না, আর কোনো পরিবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ভয় নিয়ে বাঁচতে বাধ্য হবে না।
রাজনীতি যদি সত্যিই জনগণের জন্য হয়, তাহলে নেতৃত্বের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও ত্যাগের মানদণ্ডও সাধারণ মানুষের মতোই হতে হবে। জনগণ শুধু আন্দোলনের শক্তি নয়; জনগণই এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।
লেখক: ব্যবসায়ী


































