প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 92
দুই যুগ আগে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ–এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আবারও গতি পেল।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল। আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২২ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন বলেন, চার্জ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত আবেদন গ্রহণ না করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে একই মামলায় তোফায়েল আহমেদসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা রয়েছে। অন্যদিকে সহ-আসামি মোশাররফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানির সময় তোফায়েলের পক্ষে আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তার মক্কেল শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে কাউকে চিনতে পারেন না বলেও দাবি করা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হলেও আদালত বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তোফায়েল আহমেদ ও তার সহযোগীরা অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন ও স্থানান্তর করেন।
তদন্তে উঠে আসে, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশাররফ হোসেনের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে দীর্ঘ সময় বিচার কার্যক্রম আটকে ছিল। সম্প্রতি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলাটি আবার সচল হয়।
































