পলাশবাড়ীতে মসজিদের জমি নিয়ে ত্রিমুখী মালিকানা দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 8
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেরিরহাট বাজারে নির্মাণাধীন একটি মসজিদের জমির মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ত্রিমুখী বিরোধ। একই ২০ শতক জমির ওপর মসজিদ নির্মাণ কমিটি, সরকারি খাদ্য বিভাগ এবং পীরোত্তর সম্পত্তির মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশরা পৃথকভাবে মালিকানা দাবি করায় বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জমির মালিকানা নির্ধারণে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মসজিদ নির্মাণ কমিটির দাবি
মসজিদ নির্মাণ কমিটির দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি একটি ঐতিহাসিক পীরোত্তর (ওয়াকফ) সম্পত্তি, যা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে একটি বহুতল আধুনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সাইনবোর্ড স্থাপন, মাটি খননসহ প্রাথমিক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
মসজিদ নির্মাণ কমিটির সভাপতি বলেন, জমিটি শতবর্ষী ধর্মীয় সম্পত্তি এবং সিএস ও এসএ রেকর্ডেও পীরোত্তর সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের প্রয়োজন বিবেচনায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং তারা আশা করছেন, কোনো বাধা ছাড়াই কাজ শেষ করতে পারবেন।
খাদ্য বিভাগের দাবি
অন্যদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের দাবি, মেরিরহাট বাজারের ২০ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি এবং বিআরএস (BRS) রেকর্ডে খাদ্য বিভাগের নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। তার ভাষ্য, সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশদের বক্তব্য
পীরোত্তর সম্পত্তির মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশদের দাবি, জমিটি মূলত পীর সাহেব ওলী মেহের আলী (র.)-এর নামে উৎসর্গ করা ওয়াকফ সম্পত্তি। পরবর্তীতে সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে মোতোয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রণ মামুদ হাজী। সিএস ও এসএ জরিপে তার এবং তার উত্তরাধিকারীদের নামে জমির রেকর্ড রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ওয়ারিশদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন খাদ্য বিভাগ মৌসুমি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জমিটি ব্যবহার করলেও বিআরএস জরিপের সময় ভুলবশত জমিটি সরকারি খাদ্য বিভাগের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। সেই রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা চলছে।
মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশ ও পলাশবাড়ী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, ওয়াকফ বা পীরোত্তর সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাভুক্ত হতে পারে না। এটি ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা সম্পত্তি। আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, তার নানা রণ মামুদ হাজী মোতোয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পীরোত্তর সম্পত্তির প্রায় ৪৭ শতক জমি দান করেন। ওই জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেরিরহাট ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, মেরিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় এবং মেরিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তার দাবি, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততাও এ সম্পত্তির ইতিহাসের অংশ।
আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
জমির মালিকানা নিয়ে তিন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আদালতের রায়ের পর। ততদিন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে বিরোধের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


































