ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে নাকাল নগরবাসী, নিশ্চুপ ডিপিডিসি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 7
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে বাড়ছে গ্রাহকদের ক্ষোভ। গত দুই মাস ধরে প্রি-পেইড ও পোস্ট-পেইড—উভয় ধরনের মিটার ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও বিল এসেছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তারও বেশি। অন্যদিকে প্রি-পেইড মিটারে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করছেন অনেক গ্রাহক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সুমন জানান, গত মাসে তার বাসার বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। চলতি মাসে একই বাসার বিল ২০ হাজার টাকারও বেশি এসেছে। তার দাবি, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি নিচতলার একটি ফ্ল্যাট দুই মাস ধরে খালি থাকলেও বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
শুধু সুমন নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরাও একই ধরনের অভিযোগ করছেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন না এলেও হঠাৎ করেই বিল কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে। অনেকের অভিযোগ, প্রি-পেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার কিছুদিনের মধ্যেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আগে যে পরিমাণ বিল আসত, এখন প্রায় তার দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে। আবার লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও বিল কমার পরিবর্তে আরও বাড়ছে। গ্রাহকদের ভাষ্য, এ পরিস্থিতি তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ডিপিডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, মৌখিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি তার নেই। তথ্য জানতে হলে লিখিত আবেদন করতে হবে, এরপর তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট হুমায়ূন কবীর দাবি করেন, জুন ও জুলাই মাসে বিদ্যুতের ব্যবহার সাধারণত বেশি থাকে। এছাড়া মে মাসে ঈদের ছুটির কারণে অনেক স্থানে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিটার রিডিং নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই অতিরিক্ত সময়ের ব্যবহার জুন মাসের বিলে যুক্ত হওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিল তুলনামূলক বেশি এসেছে।
তার ভাষ্য, ঈদের ছুটির কারণে প্রায় ১০ দিনের ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী বিলে সেই সময়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব যোগ হওয়ায় অনেকের কাছে বিল বেশি মনে হচ্ছে।
তবে এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ আসছে। তার দাবি, কোথাও না কোথাও বিল প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা কারসাজি হয়েছে বলেই অনেক গ্রাহকের বিল তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


































