ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্কুলে হঠাৎ হাজির ডিসি

আরিফুল ইসলাম আরিফ, ​নীলফামারী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 102

নীলফামারীতে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্কুলে হঠাৎ হাজির ডিসি

ব্ল্যাকবোর্ডে চলছে যোগ-বিয়োগের পাঠ। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তখন মনোযোগ দিয়ে অঙ্ক করছে। এর মধ্যেই শ্রেণিকক্ষের দরজায় এসে দাঁড়ান নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আকস্মিক এ উপস্থিতিতে বদলে যায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের বদলে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও নানা কর্মকাণ্ডের খোঁজ নেন তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত মো. হেদায়েত হোসেনের পরিচালনায় নীলফামারীর শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ব্যতিক্রমী পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।

শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বোর্ডে ডেকে নিয়ে গণিতের সহজ কিছু ধাঁধা দেন জেলা প্রশাসক। পরে শিশুদের সঙ্গে গ্রামীণ খেলাধুলা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন। কাবাডি, লুকোচুরি, বউচি ও কানামাছি নিয়ে কথাবার্তায় শ্রেণিকক্ষে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। এ সময় কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউ গান গেয়ে শোনায়।

পারিবারিকভাবে সাঁতার শেখা দুই শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতাও শোনেন জেলা প্রশাসক। গণিত ও সাঁতারে দক্ষতা দেখানো চার শিক্ষার্থীর হাতে বল, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট ব্যাট তুলে দেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ‘জিজ্ঞাসা বক্স’ ঘুরে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেন নায়িরুজ্জামান। পাশাপাশি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিতর্ক পরিষদ ও খেলাঘরের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। ওয়াশ ব্লকের পরিচ্ছন্নতা এবং অভিভাবকদের বসার জন্য তৈরি ‘অভিভাবক ছাউনি’ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এরপর জেলা প্রশাসক পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে যান। সেখানে শিক্ষকের ভূমিকায় শিক্ষার্থীদের অণু-পরমাণু, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে উত্তর দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়।

এ সময় সেপ্টেম্বর মাসের ‘বেস্ট অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত সুচিত্রা রানীকেও ডেকে নেন জেলা প্রশাসক। ভালো উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ ও নাচের দক্ষতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। গান ও পারফরম্যান্সে ভালো করা আরও তিন শিক্ষার্থীর হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের মাঠে স্কাউটসের ‘কাব’ কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সেখানে কাবদের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘গ্র্যান্ড ইয়েল’ গ্রহণ করেন তিনি। শিশুদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন নায়িরুজ্জামান। তার এই আকস্মিক সফর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে অনুপ্রেরণা ও আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নীলফামারীতে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্কুলে হঠাৎ হাজির ডিসি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্ল্যাকবোর্ডে চলছে যোগ-বিয়োগের পাঠ। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তখন মনোযোগ দিয়ে অঙ্ক করছে। এর মধ্যেই শ্রেণিকক্ষের দরজায় এসে দাঁড়ান নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আকস্মিক এ উপস্থিতিতে বদলে যায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের বদলে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও নানা কর্মকাণ্ডের খোঁজ নেন তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত মো. হেদায়েত হোসেনের পরিচালনায় নীলফামারীর শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ব্যতিক্রমী পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।

শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বোর্ডে ডেকে নিয়ে গণিতের সহজ কিছু ধাঁধা দেন জেলা প্রশাসক। পরে শিশুদের সঙ্গে গ্রামীণ খেলাধুলা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন। কাবাডি, লুকোচুরি, বউচি ও কানামাছি নিয়ে কথাবার্তায় শ্রেণিকক্ষে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। এ সময় কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউ গান গেয়ে শোনায়।

পারিবারিকভাবে সাঁতার শেখা দুই শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতাও শোনেন জেলা প্রশাসক। গণিত ও সাঁতারে দক্ষতা দেখানো চার শিক্ষার্থীর হাতে বল, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট ব্যাট তুলে দেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ‘জিজ্ঞাসা বক্স’ ঘুরে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেন নায়িরুজ্জামান। পাশাপাশি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিতর্ক পরিষদ ও খেলাঘরের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। ওয়াশ ব্লকের পরিচ্ছন্নতা এবং অভিভাবকদের বসার জন্য তৈরি ‘অভিভাবক ছাউনি’ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এরপর জেলা প্রশাসক পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে যান। সেখানে শিক্ষকের ভূমিকায় শিক্ষার্থীদের অণু-পরমাণু, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে উত্তর দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়।

এ সময় সেপ্টেম্বর মাসের ‘বেস্ট অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত সুচিত্রা রানীকেও ডেকে নেন জেলা প্রশাসক। ভালো উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ ও নাচের দক্ষতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। গান ও পারফরম্যান্সে ভালো করা আরও তিন শিক্ষার্থীর হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের মাঠে স্কাউটসের ‘কাব’ কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সেখানে কাবদের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘গ্র্যান্ড ইয়েল’ গ্রহণ করেন তিনি। শিশুদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন নায়িরুজ্জামান। তার এই আকস্মিক সফর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে অনুপ্রেরণা ও আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকে।