ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় এমজেএফ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও হত্যার মতো অপরাধের ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে একটি বাড়ির মেঝের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এমজেএফ।

সংগঠনটি বলছে, জামালপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। এতে ঘর, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যের বরাত দিয়ে এমজেএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টে অন্তত ২৪৯ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৪৬ জন শিশু। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এমজেএফ বলছে, এসব পরিসংখ্যান নথিভুক্ত ও প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারী ও শিশুকে বারবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিশুর ঘরে, স্কুলে যাওয়ার পথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা নিজ কমিউনিটিতে নিরাপদ থাকার কথা। এসব ঘটনা যেন কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে পরে জনমনে বিস্মৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার পাশাপাশি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভয়, মানসিক অস্থিরতা কিংবা ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এমজেএফ মনে করে, নারী ও শিশুর সুরক্ষা শুধু অপরাধ সংঘটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সংগঠনটি এর আগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য চিকিৎসা, মনোসামাজিক ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে তারা। এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও পরিবারের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

শিশুদের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং নিরাপদে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। তাদের মতে, জামালপুরের শিশুহত্যার ঘটনাটিও যেন কয়েক দিনের মধ্যে জনমনোযোগের বাইরে চলে না যায়। নারী ও শিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে ধারাবাহিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় এমজেএফ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও হত্যার মতো অপরাধের ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে একটি বাড়ির মেঝের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এমজেএফ।

সংগঠনটি বলছে, জামালপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। এতে ঘর, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যের বরাত দিয়ে এমজেএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টে অন্তত ২৪৯ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৪৬ জন শিশু। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এমজেএফ বলছে, এসব পরিসংখ্যান নথিভুক্ত ও প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারী ও শিশুকে বারবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিশুর ঘরে, স্কুলে যাওয়ার পথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা নিজ কমিউনিটিতে নিরাপদ থাকার কথা। এসব ঘটনা যেন কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে পরে জনমনে বিস্মৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার পাশাপাশি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভয়, মানসিক অস্থিরতা কিংবা ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এমজেএফ মনে করে, নারী ও শিশুর সুরক্ষা শুধু অপরাধ সংঘটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সংগঠনটি এর আগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য চিকিৎসা, মনোসামাজিক ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে তারা। এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও পরিবারের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

শিশুদের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং নিরাপদে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। তাদের মতে, জামালপুরের শিশুহত্যার ঘটনাটিও যেন কয়েক দিনের মধ্যে জনমনোযোগের বাইরে চলে না যায়। নারী ও শিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে ধারাবাহিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।