ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ১০ শিক্ষক, তবুও কেউ পাস করেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

দুই শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ১০ শিক্ষক, তবুও কেউ পাস করেনি

খুলনার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একটি বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই ফেল করেছেন। অন্যটিতে চার পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অথচ প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১০ ও ৯ জন।

খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন।

অন্যদিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। চারজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।

এসএসসির ফল প্রকাশের পর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আমেজ, তখন এই দুই বিদ্যালয়ে নেমে এসেছে হতাশা।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪ হাজার ৪২১ জন। জেলার মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ ছিল।

মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ১৫০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এবার বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে ডুমুরিয়ার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই ফেল করেছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহের অভাবের কারণেই ফল খারাপ হয়েছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাড়িতেও নিয়মিত পড়াশোনা না করলে শুধু শিক্ষকদের পক্ষে ভালো ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুই শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ১০ শিক্ষক, তবুও কেউ পাস করেনি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

খুলনার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একটি বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই ফেল করেছেন। অন্যটিতে চার পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অথচ প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১০ ও ৯ জন।

খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন।

অন্যদিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। চারজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।

এসএসসির ফল প্রকাশের পর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আমেজ, তখন এই দুই বিদ্যালয়ে নেমে এসেছে হতাশা।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪ হাজার ৪২১ জন। জেলার মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ ছিল।

মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ১৫০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এবার বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে ডুমুরিয়ার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই ফেল করেছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহের অভাবের কারণেই ফল খারাপ হয়েছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাড়িতেও নিয়মিত পড়াশোনা না করলে শুধু শিক্ষকদের পক্ষে ভালো ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।