ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আদালতে জানে আলম অপু

চাঁদাবাজির ঘটনা জানতাম না, রিয়াদের ডাকে গিয়ে ফেঁসে গেছি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 225

আদালতে জানে আলম অপু

রাজধানীর গুলশানে সাবেক নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গ্রীণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকেও বহিষ্কার হওয়া জানে আলম অপু আদালতে দাবি করেছেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং রিয়াদের ডাকে গিয়ে তিনি ফেঁসে গেছেন।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে অংশ নিয়ে অপু বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা আছে, তা আমরা কেউই জানতাম না। রিয়াদ বিপদে পড়েছে বলে জানায় এবং আমাদের দ্রুত যেতে বলে। আমরা সেখানে গিয়ে ফেঁসে যাই। পরে ঘটনা শুনে চলে আসি।”

আসামি অপুকে এদিন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট পরিয়ে ও হাতকড়া লাগিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অপু ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। ইতোমধ্যে তাদের এমন কার্যকলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন থানায় অভিযোগও রয়েছে। বাদীর কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া অর্থের কিছু অংশ ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অর্থ কার কাছে আছে, তা জানতেই রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জানে আলম অপু
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জানে আলম অপু

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাইয়ুম নয়ন শুনানিতে বলেন, “আসামিরা জুলাই আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার জন্য চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য রিমান্ড অপরিহার্য।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, “মামলার এজাহার ও ফরোয়ার্ডিংয়ে আসামির নাম, বাবার নামের মিল নেই। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ছাত্রদল ত্যাগ করে তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হয়েছিলেন, সেজন্য তাকে বিতর্কিত করতেই এ মামলা দেওয়া হয়েছে।”

শুনানির একপর্যায়ে অপু নিজে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান এবং বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। নামের মিল নেই, লোকেশন ট্র্যাক করলেই দেখা যাবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমাদের নিকনেম ব্যবহার করা হয়েছিল, তদন্তে আসল পরিচয় জানা যায়। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিমান্ডে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”

আদালত তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “নামটি কীভাবে লিখলেন? এজাহারের সঙ্গে ফরোয়ার্ডিংয়ের নামের মিল নেই কেন?” তদন্ত কর্মকর্তা জবাবে জানান, “ঘটনার সময় ডাকনাম ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে পুরো নাম জানা গেছে।”

আসামিপক্ষ আদালতে আরও জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে আসামি সেখানে ছিলেন কি না। এই মামলা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে, এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমেই তা সামনে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে অপুর গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আদালতে জানে আলম অপু

চাঁদাবাজির ঘটনা জানতাম না, রিয়াদের ডাকে গিয়ে ফেঁসে গেছি

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানীর গুলশানে সাবেক নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গ্রীণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকেও বহিষ্কার হওয়া জানে আলম অপু আদালতে দাবি করেছেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং রিয়াদের ডাকে গিয়ে তিনি ফেঁসে গেছেন।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে অংশ নিয়ে অপু বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা আছে, তা আমরা কেউই জানতাম না। রিয়াদ বিপদে পড়েছে বলে জানায় এবং আমাদের দ্রুত যেতে বলে। আমরা সেখানে গিয়ে ফেঁসে যাই। পরে ঘটনা শুনে চলে আসি।”

আসামি অপুকে এদিন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট পরিয়ে ও হাতকড়া লাগিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অপু ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। ইতোমধ্যে তাদের এমন কার্যকলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন থানায় অভিযোগও রয়েছে। বাদীর কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া অর্থের কিছু অংশ ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অর্থ কার কাছে আছে, তা জানতেই রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জানে আলম অপু
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জানে আলম অপু

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাইয়ুম নয়ন শুনানিতে বলেন, “আসামিরা জুলাই আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার জন্য চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য রিমান্ড অপরিহার্য।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, “মামলার এজাহার ও ফরোয়ার্ডিংয়ে আসামির নাম, বাবার নামের মিল নেই। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ছাত্রদল ত্যাগ করে তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হয়েছিলেন, সেজন্য তাকে বিতর্কিত করতেই এ মামলা দেওয়া হয়েছে।”

শুনানির একপর্যায়ে অপু নিজে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান এবং বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। নামের মিল নেই, লোকেশন ট্র্যাক করলেই দেখা যাবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমাদের নিকনেম ব্যবহার করা হয়েছিল, তদন্তে আসল পরিচয় জানা যায়। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিমান্ডে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”

আদালত তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “নামটি কীভাবে লিখলেন? এজাহারের সঙ্গে ফরোয়ার্ডিংয়ের নামের মিল নেই কেন?” তদন্ত কর্মকর্তা জবাবে জানান, “ঘটনার সময় ডাকনাম ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে পুরো নাম জানা গেছে।”

আসামিপক্ষ আদালতে আরও জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে আসামি সেখানে ছিলেন কি না। এই মামলা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে, এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমেই তা সামনে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে অপুর গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।