কোনো প্রশাসনিক পদ চিরস্থায়ী নয়: প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 91
ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি কোনো প্রশাসনিক পদও চিরস্থায়ী নয়।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে এক ধরনের সতর্ক বার্তা ও প্রত্যাশার মিশ্রণই শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদার মানদণ্ডে আপস করলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতেই পড়ে—এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত প্রতিটি কর্মকর্তার উচিত দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পদকে নয়। কারণ বাস্তবতা হলো, কোনো সরকার যেমন দীর্ঘস্থায়ী হয় না, প্রশাসনের পদও তেমন স্থায়ী নয়।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৬ মে পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনকে বর্তমান সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংলাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এসে তিনি কিছুটা রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে প্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব—যা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অতীতে প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি, যা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাই যেন আবারও তুলে ধরলেন।
প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানালেও প্রত্যাশার মাত্রা কমাননি। দেশের যে কোনো প্রান্তে, যে কোনো দায়িত্বে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তার ভাষায়, দায়িত্ববোধ যদি জায়গা মতো কাজ করে, তাহলে প্রশাসনের দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা—দুটিই বাড়বে।
রাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট টানতে গিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় কার্যকারিতা হারিয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি—বর্তমান সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে বলে দাবি করেন।
সরকারি উদ্যোগের মধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড চালুর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিতও দেন তিনি—দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এর আওতায় আনার কথা বলেন।
কৃষিখাতে জোর দিয়ে তিনি জানান, সেচব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল বেশ সরাসরি। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই সরকারের নীতি বাস্তবায়নের মূল সেতু—তাদের সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপরই সাফল্য নির্ভর করছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। খাদ্যে ভেজাল রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
তরুণদের প্রসঙ্গে এসে কিছুটা ভিন্ন সুর। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন—সমাজে ইতিবাচক শক্তি তৈরির একটি পথ হিসেবে।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে রাষ্ট্রের স্বার্থে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটাই—বাংলাদেশ।




































