ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন বন্ধ, লে-অফে উত্তরা ইপিজেড

আরিফুল ইসলাম আরিফ নীলফামারী প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 119

অর্ডার কমে যাওয়া আর কাঁচামালের টানাপোড়েন—এই দুই চাপের মধ্যে পড়ে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত ম্যাজেন (বিডি) ইন্ডাস্ট্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য লে-অফ ঘোষণা করেছে। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অপারেশন এরেন লি স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, একই সঙ্গে ক্রেতাদের অর্ডারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।

নোটিশ অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ইপিজেড আইন ২০১৯-এর ধারা ৪৫ অনুসারে লে-অফ কার্যকর থাকবে। এই সময় শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারখানায় উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে—অর্থাৎ কাঁচামাল ও অর্ডার ফিরে এলে—পুনরায় কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হবে।

লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের আর্থিক দিকটিও কিছুটা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি ৭ থেকে ১৪ মে’র মধ্যে ঈদুল আজহার বোনাস ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।

উত্তরা ইপিজেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লে-অফের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তার মতে, কাঁচামালের সরবরাহ ও ক্রয়াদেশ স্বাভাবিক হলেই কারখানার কার্যক্রম আবার চালু হতে পারে—যদিও সেটি কবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ম্যাজেন (বিডি) ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ৪ হাজার ৩৬১ জন স্থানীয় শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। পাশাপাশি ৯৬ জন বিদেশি নাগরিক ও বিশেষজ্ঞও এখানে কাজ করছেন। এই বৃহৎ কর্মীবাহিনীর জন্য পরিস্থিতি ঠিক কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন বন্ধ, লে-অফে উত্তরা ইপিজেড

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

অর্ডার কমে যাওয়া আর কাঁচামালের টানাপোড়েন—এই দুই চাপের মধ্যে পড়ে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত ম্যাজেন (বিডি) ইন্ডাস্ট্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য লে-অফ ঘোষণা করেছে। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অপারেশন এরেন লি স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, একই সঙ্গে ক্রেতাদের অর্ডারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।

নোটিশ অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ইপিজেড আইন ২০১৯-এর ধারা ৪৫ অনুসারে লে-অফ কার্যকর থাকবে। এই সময় শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারখানায় উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে—অর্থাৎ কাঁচামাল ও অর্ডার ফিরে এলে—পুনরায় কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হবে।

লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের আর্থিক দিকটিও কিছুটা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি ৭ থেকে ১৪ মে’র মধ্যে ঈদুল আজহার বোনাস ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।

উত্তরা ইপিজেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লে-অফের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তার মতে, কাঁচামালের সরবরাহ ও ক্রয়াদেশ স্বাভাবিক হলেই কারখানার কার্যক্রম আবার চালু হতে পারে—যদিও সেটি কবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ম্যাজেন (বিডি) ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ৪ হাজার ৩৬১ জন স্থানীয় শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। পাশাপাশি ৯৬ জন বিদেশি নাগরিক ও বিশেষজ্ঞও এখানে কাজ করছেন। এই বৃহৎ কর্মীবাহিনীর জন্য পরিস্থিতি ঠিক কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।