ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় সারবোঝাই বাল্কহেড ঘিরে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 52

ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরার সীমান্তবর্তী চর নিজামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে সারবোঝাই একটি বাল্কহেড আটকের ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অবৈধভাবে সার পাচারের সময় নৌযানটি আটকের পর প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ বস্তা সার রেখে বাকি সারসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চর কালকিনির দক্ষিণ মাথা ও চর নিজামের মধ্যবর্তী মেঘনার মোহনা দিয়ে কয়েক শ বস্তা সারবোঝাই একটি বাল্কহেড চলাচল করছিল। এ সময় চর নিজামের বাসিন্দা কামরুল খলিফা, কামরুল মাস্টার ও নিরবের নেতৃত্বে কয়েকজন স্পিডবোটে গিয়ে নৌযানটি আটক করেন।

স্থানীয়দের দাবি, বাল্কহেডটিতে ৫০০ থেকে ৭০০ বস্তা সার ছিল। পরে নৌযানের লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সার রেখে দিয়ে বাকি মালামালসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার ভাষ্য, নামিয়ে রাখা সার এখনো চর নিজাম এলাকায় রয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্থানীয় যুবদল ও ১৯ নম্বর ঢালচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “নয়ন ভাইয়ের এলাকায় কোনো অবৈধ মাল চলবে না।” আরেকজন দাবি করেন, অবৈধভাবে সার পাচারের খবর পেয়ে তারা একটি বোট আটক করেছেন, যদিও আরও দুটি বোট সার নিয়ে চলে গেছে।

ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপের অডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই অডিওতে উদ্ধার হওয়া সার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম খলিফা সব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “৫ লাখ টাকা কিংবা ২০০ বস্তা সার রেখে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। জেলেরা একটি ছোট স্টিল বডির নৌকা থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৫ বস্তা সার উদ্ধার করেছে। বড় কার্গো থেকে সার নামানোর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কিছুই পাইনি।”

এ বিষয়ে ভোলা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, সারের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ইদানীং এভাবে সার পাচারের ঘটনা খুব একটা ঘটে না। অনেক সময় নদীপথে এক পক্ষ অন্য পক্ষের মালামাল আটকে পাচারের অভিযোগ তোলে। তাই তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মেঘনায় সারবোঝাই বাল্কহেড ঘিরে রহস্য

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরার সীমান্তবর্তী চর নিজামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে সারবোঝাই একটি বাল্কহেড আটকের ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অবৈধভাবে সার পাচারের সময় নৌযানটি আটকের পর প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ বস্তা সার রেখে বাকি সারসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চর কালকিনির দক্ষিণ মাথা ও চর নিজামের মধ্যবর্তী মেঘনার মোহনা দিয়ে কয়েক শ বস্তা সারবোঝাই একটি বাল্কহেড চলাচল করছিল। এ সময় চর নিজামের বাসিন্দা কামরুল খলিফা, কামরুল মাস্টার ও নিরবের নেতৃত্বে কয়েকজন স্পিডবোটে গিয়ে নৌযানটি আটক করেন।

স্থানীয়দের দাবি, বাল্কহেডটিতে ৫০০ থেকে ৭০০ বস্তা সার ছিল। পরে নৌযানের লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সার রেখে দিয়ে বাকি মালামালসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার ভাষ্য, নামিয়ে রাখা সার এখনো চর নিজাম এলাকায় রয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্থানীয় যুবদল ও ১৯ নম্বর ঢালচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “নয়ন ভাইয়ের এলাকায় কোনো অবৈধ মাল চলবে না।” আরেকজন দাবি করেন, অবৈধভাবে সার পাচারের খবর পেয়ে তারা একটি বোট আটক করেছেন, যদিও আরও দুটি বোট সার নিয়ে চলে গেছে।

ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপের অডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই অডিওতে উদ্ধার হওয়া সার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম খলিফা সব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “৫ লাখ টাকা কিংবা ২০০ বস্তা সার রেখে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। জেলেরা একটি ছোট স্টিল বডির নৌকা থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৫ বস্তা সার উদ্ধার করেছে। বড় কার্গো থেকে সার নামানোর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কিছুই পাইনি।”

এ বিষয়ে ভোলা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, সারের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ইদানীং এভাবে সার পাচারের ঘটনা খুব একটা ঘটে না। অনেক সময় নদীপথে এক পক্ষ অন্য পক্ষের মালামাল আটকে পাচারের অভিযোগ তোলে। তাই তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।