সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিয়ে কর্মশালা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 10
রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ, সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের পথ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া নারীর কার্যকর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এতে সহযোগিতা করে ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস)। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগঠন এবং স্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নারী রাজনৈতিক কর্মীরা এতে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ, শাসনব্যবস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের গভীরতর ধারণা দেওয়া এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা উৎসাহিত করা।
কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও তাদের অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক অধিকার, অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব বিকাশের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করে বলেন, ক্লায়েন্টেলিজম বা পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। তার মতে, লবিং, দুর্নীতি এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ সীমিত করে। তিনি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।
কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দ্য কার্টার সেন্টারের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাম্মী লায়লা ইসলাম। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেলেও কাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বে কার্যকর অংশগ্রহণকে সীমিত করে রাখছে।
তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার উদাহরণ তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, পৃষ্ঠপোষক নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রার্থী মনোনয়ন এবং নারীর নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগকে প্রভাবিত করে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী রাজনৈতিক কর্মীরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিকেন্দ্রীকরণ, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে বক্তারা অভ্যন্তরীণ দলীয় গণতন্ত্র জোরদার, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
































