‘ভিন্নমতের আদান-প্রদানই গণতন্ত্রের শক্তি’
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 14
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো একক আদর্শ, দর্শন বা চিন্তার আধিপত্য মানবসভ্যতার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং বৈচিত্র্য, ভিন্নমত এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার প্ল্যাটফর্ম ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্ত, দায়িত্বশীল ও জ্ঞানভিত্তিক বুদ্ধিচর্চার বিকল্প নেই। সব ধরনের মত, আদর্শ ও চিন্তার মধ্যে গঠনমূলক সংলাপই পারে মানবসভ্যতার সামনে নতুন পথ খুলে দিতে।”
ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসাভাসা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তার মতে, আল-উম্মাহ জার্নাল সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ভাষা, ধর্ম, জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য প্রকৃতিরই অংশ। তাই কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা আদর্শ এককভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মতাদর্শের গবেষক ও চিন্তাবিদদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বৈচিত্র্য, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাস করে। প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ মত প্রকাশ করতে পারেন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতের আদান-প্রদান নিশ্চিত হয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি- চার ভাষায় জার্নালটি প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তুরস্কের খ্যাতিমান লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার সময় এসেছে। আল-উম্মাহ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সংযোগ গড়ে তুলতে এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, শিক্ষা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
































