ইস্যু থাকবে, সম্পর্কও ভালো থাকবে: দীনেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক দুই দেশের মধ্যে নানা ইস্যু থাকবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবে, সময়ের সঙ্গে নতুন ইস্যুও সামনে আসবে। তবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করতে হবে। দুই দেশের জনগণই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুন্দর ও শক্তিশালী দেখতে চায়।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু রয়েছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইস্যু না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকবে না।’ এ সময় তিনি পারিবারিক জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, বাড়িতেও বিভিন্ন ইস্যু থাকে। তাই দুই দেশের মধ্যেও ইস্যু থাকা অস্বাভাবিক নয়।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই দেশেই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং উভয় দেশের সাধারণ মানুষই ভালো সম্পর্ক প্রত্যাশা করে।
দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, প্রতিবেশীকেও পরিবর্তন করা যায় না। বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্তই ভাগ করে না, দুই দেশের মানুষ নিজেদের স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দুই মাসে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে তিনি অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রথম সাক্ষাতেই তার মনে হয়নি এটি তাদের প্রথম দেখা। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘পিপল টু পিপল’ যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেগুলোর সমাধানের পথও বেরিয়ে আসবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভালো রাখার বিষয়ে আগ্রহী।
দুই দেশের সরকার কবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে এবং আসন্ন কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবই ভালো হবে।’
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশের যেমন নিজস্ব ইস্যু রয়েছে, ভারতেরও নিজস্ব ইস্যু রয়েছে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা এক; ভালো সম্পর্ক। সম্পর্ক ভালো থাকলে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও সহজ হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুর সমাধান করতেই হবে। এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং আগামী দিনগুলো আরও ভালো হবে বলে মনে করেন।


































