৮৬ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সম্মানী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 24
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে
চলতি অর্থবছরে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ১৫টি করে মসজিদ সম্মানী ভাতার জন্য নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাগুলোর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হবে ছয়টি মসজিদ।
মন্দিরের ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির বাছাই করা হবে। বাকি মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলা ভিত্তিতে ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।
কে কত সম্মানী পাবেন
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে বিভিন্ন হারে মাসিক সম্মানী। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক প্রত্যেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন।
অন্যদিকে, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে। মসজিদের খাদেমদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী।
সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।
বাজেটে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের মোট ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সুবিধার আওতায় আসবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
































