ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলিয়া মাদ্রাসায় শান্তির পথে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

আলিয়া মাদ্রাসায় শান্তির পথে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। হল দখলকে কেন্দ্র করে গত ৪ আগস্ট দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় তারা।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে মাদ্রাসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সংঘর্ষের ক্ষত এখনো দৃশ্যমান আলিয়া মাদ্রাসার বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন। শিক্ষা কার্যক্রমসহ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন ছাত্রদলের নেতারা।

ছাত্রদলের এক নেতা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও উল্টো তাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে শিক্ষাবোর্ডের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আরেক নেতা বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সবাইকে মিলেমিশে থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ছাত্রদলের আরেক নেতা জানান, ভবিষ্যতে যাতে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের সতর্ক করেছেন। একইভাবে ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাদের নেতাকর্মীদের ছাত্রদলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, আবাসিক হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, হলে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর মেধা ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হলে ওঠার সংস্কৃতিও বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংঘর্ষের পর আলোচনার মাধ্যমে দুই সংগঠন সমঝোতায় পৌঁছালেও তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ঘোষিত এই সহাবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আলিয়া মাদ্রাসায় শান্তির পথে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। হল দখলকে কেন্দ্র করে গত ৪ আগস্ট দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় তারা।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে মাদ্রাসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সংঘর্ষের ক্ষত এখনো দৃশ্যমান আলিয়া মাদ্রাসার বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন। শিক্ষা কার্যক্রমসহ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন ছাত্রদলের নেতারা।

ছাত্রদলের এক নেতা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও উল্টো তাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে শিক্ষাবোর্ডের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আরেক নেতা বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সবাইকে মিলেমিশে থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ছাত্রদলের আরেক নেতা জানান, ভবিষ্যতে যাতে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের সতর্ক করেছেন। একইভাবে ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাদের নেতাকর্মীদের ছাত্রদলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, আবাসিক হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, হলে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর মেধা ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হলে ওঠার সংস্কৃতিও বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংঘর্ষের পর আলোচনার মাধ্যমে দুই সংগঠন সমঝোতায় পৌঁছালেও তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ঘোষিত এই সহাবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের।