ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে

আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 121

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৩০ আগস্ট এমন একটি দিন, যা গুমের শিকার মানুষ ও তাদের পরিবারের সীমাহীন কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের মা-বাবা, স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক পরিবার প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেছে। কোনো স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে একা জীবন কাটিয়েছেন, আবার কোনো সন্তান বাবার অপেক্ষায় শৈশব পার করেছে। কিন্তু তাদের অনেকেই আর কখনো ফিরে আসেননি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি শুধু একজন মানুষকে নিখোঁজ করে দেওয়ার ঘটনা নয়; এর মাধ্যমে একটি পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্বও কেড়ে নেওয়া হয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

গত দেড় দশকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ বাংলাদেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমাতে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও বেদনার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্নমতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও বছরের পর বছর গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফিরে এলেও এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদনে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো যে আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয় থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন; তার ওপরই প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্য নির্ভর করে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। কোনো মা যেন সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রী যেন স্বামীর জন্য চোখের পানি না ফেলেন, সেটিই রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার কোনো সুযোগ না থাকে, সে পথও বন্ধ করতে হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র আন্তরিকভাবে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে

আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৩০ আগস্ট এমন একটি দিন, যা গুমের শিকার মানুষ ও তাদের পরিবারের সীমাহীন কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের মা-বাবা, স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক পরিবার প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেছে। কোনো স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে একা জীবন কাটিয়েছেন, আবার কোনো সন্তান বাবার অপেক্ষায় শৈশব পার করেছে। কিন্তু তাদের অনেকেই আর কখনো ফিরে আসেননি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি শুধু একজন মানুষকে নিখোঁজ করে দেওয়ার ঘটনা নয়; এর মাধ্যমে একটি পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্বও কেড়ে নেওয়া হয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

গত দেড় দশকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ বাংলাদেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমাতে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও বেদনার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্নমতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও বছরের পর বছর গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফিরে এলেও এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদনে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো যে আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয় থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন; তার ওপরই প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্য নির্ভর করে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। কোনো মা যেন সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রী যেন স্বামীর জন্য চোখের পানি না ফেলেন, সেটিই রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার কোনো সুযোগ না থাকে, সে পথও বন্ধ করতে হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র আন্তরিকভাবে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।