কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে ইউরেনিয়ামের চালান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতি হলো।
প্রকল্প এলাকায় চালানটি পৌঁছালে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি ও রুশ কর্মকর্তারা জ্বালানিবাহী গাড়িটিকে স্বাগত জানান।
এর আগে গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে সড়কপথে তা রূপপুরে নেওয়া হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি আনা সম্ভব হয়নি। পরে জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচি অনুযায়ী ২ অক্টোবর জ্বালানিটি দেশে আনা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। এ সময়ে মোট নয়টি ফ্লাইটে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য কয়েক ধাপে ইউরেনিয়াম আমদানি করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ওই ইউনিটের জন্য জ্বালানির চালান আসে। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান পৌঁছাল।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি ইউনিটটির সেফটি ভাল্বের ১৬ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে যাওয়ার আগে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নির্ধারিত সময়ে বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করা সম্ভব হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।


































