সন্তান বিক্রির টাকায় কেনা সেই আইফোন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 58
আইফোনের প্রতি অন্ধ আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। পরে সেই টাকা থেকে ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যবহৃত আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কেনেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।
অভিযুক্ত বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় মারুফ মুন্সিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে ছেলেকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাদের খোঁজ শুরু করেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মারুফ তার দেড় বছরের ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। শিশুটিকে বিক্রির টাকা দিয়ে আইফোন কেনার বিষয়টিও তখন সামনে আসে।
মারুফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় এক যুবক ইমরানের কাছ থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ৫৫ হাজার টাকায় কেনেন। সন্তান বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া বাকি ৪৫ হাজার টাকা দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করেছেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা শিশুটিকে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো ঘটনা ঘটলেও মারুফের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং নতুন কেনা আইফোন হাতে তাকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
এদিকে শিশু মুসার ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান শিশুটির নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।






























