ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার ৫০ লাখ ডলার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, পুষ্টি ও শিশুদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া এই অর্থে ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সহায়তার আওতায় থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনা করা শিশুরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে এ অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছিল। কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে মানবিক কার্যক্রমে অর্থের সংকটও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই অর্থায়ন করা হলো।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সহায়তার মাধ্যমে ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী পুষ্টি সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি লার্নিং সেন্টারে পড়ুয়া প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আসবে।

এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্টেড হাউসহোল্ডস’ বা রিচ-এর দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে। ডব্লিউএফপির অংশীদারত্বে বাংলাদেশে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনার সুযোগ পায়। পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুদের স্কুলের দিনগুলোতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এতে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্রে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডব্লিউএফপির সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। জীবন রক্ষা, মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংকটের এই সময়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কোকো উশিয়ামা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপির অংশীদারত্ব ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। ১৯৬৪ সালে শুরু হওয়া এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে নগদ অর্থ ও পণ্য সহায়তা দিয়ে আসছে সিউল।

সর্বশেষ ৫০ লাখ ডলারের অবদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার ৫০ লাখ ডলার

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, পুষ্টি ও শিশুদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া এই অর্থে ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সহায়তার আওতায় থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনা করা শিশুরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে এ অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছিল। কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে মানবিক কার্যক্রমে অর্থের সংকটও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই অর্থায়ন করা হলো।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সহায়তার মাধ্যমে ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী পুষ্টি সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি লার্নিং সেন্টারে পড়ুয়া প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আসবে।

এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্টেড হাউসহোল্ডস’ বা রিচ-এর দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে। ডব্লিউএফপির অংশীদারত্বে বাংলাদেশে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনার সুযোগ পায়। পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুদের স্কুলের দিনগুলোতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এতে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্রে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডব্লিউএফপির সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। জীবন রক্ষা, মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংকটের এই সময়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কোকো উশিয়ামা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপির অংশীদারত্ব ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। ১৯৬৪ সালে শুরু হওয়া এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে নগদ অর্থ ও পণ্য সহায়তা দিয়ে আসছে সিউল।

সর্বশেষ ৫০ লাখ ডলারের অবদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে।