ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 101

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এ বিধিনিষেধ চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সময় সমুদ্রে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলা এবং আশপাশের এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

ভোলা জেলার মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে আছেন, যারা মূলত সাগরনির্ভর জীবিকা চালান। সবচেয়ে বেশি জেলে চরফ্যাশন উপজেলায়—১৭ হাজার ৫৬১ জন।

এরপর দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০, তজুমদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ এবং ভোলা সদরে ৩ হাজার ৬৯৮ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।

জেলেরা ইতোমধ্যে সমুদ্র থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন, কেউ আবার জাল মেরামত বা ইঞ্জিন সংস্কারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের অনেকে জানান, সরকারি নির্দেশনা মানা হলেও এই সময়টা জীবিকার চাপ তৈরি করে।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

অন্যদিকে জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এ সময়ে সাগরে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ ঠেকানো না গেলে স্থানীয় জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েন বলে তাদের অভিযোগ।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স সক্রিয় রয়েছে। ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনা ও সংযোগ খাল ঘেঁষা ঘাটগুলোতে ট্রলারের ভিড় বাড়ছে। নদী থেকে ফেরা নৌযানগুলো সারিবদ্ধভাবে তীরে নোঙর করছে। কেউ বিশ্রামে, কেউ আবার পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো সহায়তা পৌঁছালে এই ৫৮ দিন জেলে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবে। তবে দীর্ঘ বিরতির অর্থনৈতিক চাপও পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এ বিধিনিষেধ চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সময় সমুদ্রে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলা এবং আশপাশের এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

ভোলা জেলার মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে আছেন, যারা মূলত সাগরনির্ভর জীবিকা চালান। সবচেয়ে বেশি জেলে চরফ্যাশন উপজেলায়—১৭ হাজার ৫৬১ জন।

এরপর দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০, তজুমদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ এবং ভোলা সদরে ৩ হাজার ৬৯৮ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।

জেলেরা ইতোমধ্যে সমুদ্র থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন, কেউ আবার জাল মেরামত বা ইঞ্জিন সংস্কারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের অনেকে জানান, সরকারি নির্দেশনা মানা হলেও এই সময়টা জীবিকার চাপ তৈরি করে।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

অন্যদিকে জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, এ সময়ে সাগরে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ ঠেকানো না গেলে স্থানীয় জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েন বলে তাদের অভিযোগ।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স সক্রিয় রয়েছে। ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনা ও সংযোগ খাল ঘেঁষা ঘাটগুলোতে ট্রলারের ভিড় বাড়ছে। নদী থেকে ফেরা নৌযানগুলো সারিবদ্ধভাবে তীরে নোঙর করছে। কেউ বিশ্রামে, কেউ আবার পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো সহায়তা পৌঁছালে এই ৫৮ দিন জেলে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবে। তবে দীর্ঘ বিরতির অর্থনৈতিক চাপও পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।