ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূষিত বুড়িগঙ্গা হবে পর্যটনকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

বুড়িগঙ্গা

একসময় ঢাকার প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত আদি বুড়িগঙ্গা এখন দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সময়ের ব্যবধানে নদীটি পরিণত হয়েছে প্রায় মৃত খালে। তবে সেই দূষিত আদি বুড়িগঙ্গাকেই নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, আজিমপুর হয়ে রায়েরবাজার পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেলটি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বর্জ্যের ভারে জর্জরিত। বিশেষ করে হাজারীবাগের ট্যানারি ও আবাসিক বর্জ্য বছরের পর বছর এই জলপথে ফেলা হয়েছে। ফলে পানির রং কালো হয়ে গেছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশার উপদ্রবও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন নর্দমার ময়লা ও পচা পানি এসে এখানে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমতে থাকায় পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, নদীর আশপাশে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের কেউ কেউ জানান, এক দশক আগেও এই জলপথে মাছ পাওয়া যেত এবং স্থানীয় মানুষ গোসল করতেন। এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্জ্য জমে পানি পচে যাওয়ায় পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মধ্যে আদি বুড়িগঙ্গাই সবচেয়ে ভয়াবহ দূষণের শিকার। বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯০টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য এই চ্যানেলে পড়ছে। পরে দূষিত পানি গিয়ে মিশছে মূল বুড়িগঙ্গায়।

পরিবেশবিদ আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, পানির গুণগত মান বিবেচনায় আদি বুড়িগঙ্গাকে আর জীবন্ত নদী বলা যায় না। পানির রং কালো হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধের কারণে নদীর আশপাশে যাওয়া কঠিন। পানির প্রবাহ না থাকায় দূষণও স্বাভাবিকভাবে কমছে না।

তবে নদীটিকে পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক ও জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কাজ করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর আগামী গ্রীষ্মে বড় পরিসরে পুনঃখনন শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, নদীর সীমানা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করা হবে। গাবতলী থেকে পাগলা পর্যন্ত আট লেনের যে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে যাবে। ভবিষ্যতে এই নদীকে একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে শুধু দখল উচ্ছেদ বা পুনঃখনন করলেই আদি বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। নদীকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে হলে দূষণের উৎসগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নদীতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না। তাই আদি বুড়িগঙ্গাকে তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত নজরদারির ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দূষিত বুড়িগঙ্গা হবে পর্যটনকেন্দ্র

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

একসময় ঢাকার প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত আদি বুড়িগঙ্গা এখন দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সময়ের ব্যবধানে নদীটি পরিণত হয়েছে প্রায় মৃত খালে। তবে সেই দূষিত আদি বুড়িগঙ্গাকেই নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, আজিমপুর হয়ে রায়েরবাজার পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেলটি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বর্জ্যের ভারে জর্জরিত। বিশেষ করে হাজারীবাগের ট্যানারি ও আবাসিক বর্জ্য বছরের পর বছর এই জলপথে ফেলা হয়েছে। ফলে পানির রং কালো হয়ে গেছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশার উপদ্রবও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন নর্দমার ময়লা ও পচা পানি এসে এখানে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমতে থাকায় পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, নদীর আশপাশে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের কেউ কেউ জানান, এক দশক আগেও এই জলপথে মাছ পাওয়া যেত এবং স্থানীয় মানুষ গোসল করতেন। এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্জ্য জমে পানি পচে যাওয়ায় পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মধ্যে আদি বুড়িগঙ্গাই সবচেয়ে ভয়াবহ দূষণের শিকার। বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯০টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য এই চ্যানেলে পড়ছে। পরে দূষিত পানি গিয়ে মিশছে মূল বুড়িগঙ্গায়।

পরিবেশবিদ আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, পানির গুণগত মান বিবেচনায় আদি বুড়িগঙ্গাকে আর জীবন্ত নদী বলা যায় না। পানির রং কালো হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধের কারণে নদীর আশপাশে যাওয়া কঠিন। পানির প্রবাহ না থাকায় দূষণও স্বাভাবিকভাবে কমছে না।

তবে নদীটিকে পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক ও জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কাজ করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর আগামী গ্রীষ্মে বড় পরিসরে পুনঃখনন শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, নদীর সীমানা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করা হবে। গাবতলী থেকে পাগলা পর্যন্ত আট লেনের যে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে যাবে। ভবিষ্যতে এই নদীকে একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে শুধু দখল উচ্ছেদ বা পুনঃখনন করলেই আদি বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। নদীকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে হলে দূষণের উৎসগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নদীতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না। তাই আদি বুড়িগঙ্গাকে তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত নজরদারির ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।