ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18

মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া বিএনপির শীর্ষ ও সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব পদ ও স্থায়ী কমিটি থেকে এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।

এদিন দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কে হচ্ছেন, এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে এক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই আলোচনায় ছিল জোরেশোরে। যদিও এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসে আজ।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও- ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুসারে, আজ বিকেল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাইবাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল (অব.) অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝখানের সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।

সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া বিএনপির শীর্ষ ও সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব পদ ও স্থায়ী কমিটি থেকে এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।

এদিন দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কে হচ্ছেন, এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে এক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই আলোচনায় ছিল জোরেশোরে। যদিও এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসে আজ।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও- ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুসারে, আজ বিকেল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাইবাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল (অব.) অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝখানের সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।

সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।