ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 25

সাভারে একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক

সাভারে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ শ্যামপুর ও বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ী এলাকায় এসব বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানে সাভার থানা পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

পুলিশ জানায়, এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি হাতবোমাসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেখান থেকে নয়টি ককটেলসদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, গানপাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আটক আরিফ হোসেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিলেন। পরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাস থেকে নামার পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা ছাড়াও একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়।

ওই বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তি মাসিক চার হাজার টাকায় নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে প্রাইভেটকার চালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বাসায় ওঠার পর দিনের বেলায় তাকে তেমন দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে রাতে ওই কক্ষে ভারী জিনিসপত্র রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলেও জানান বাড়ির মালিকের মেয়ে।

এ ঘটনায় সিটিটিসির একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।

এদিকে বুধবার সকালে বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ী এলাকার ঘোড়া মসজিদের সামনে মাঠ থেকে একটি প্রেসার কুকার বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে কাপড়, একটি কোরআন শরিফ এবং স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো প্রেসার কুকার দেখতে পান। প্রেসার কুকার থেকে বৈদ্যুতিক তার বের হয়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানায়। বুধবার বিকেলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, দক্ষিণ শ্যামপুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিটিটিসির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। সেখানে জেএমবির কিছু লিফলেট, ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগ থেকে প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাভারে একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সাভারে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ শ্যামপুর ও বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ী এলাকায় এসব বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানে সাভার থানা পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

পুলিশ জানায়, এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি হাতবোমাসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেখান থেকে নয়টি ককটেলসদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, গানপাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আটক আরিফ হোসেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিলেন। পরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাস থেকে নামার পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা ছাড়াও একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়।

ওই বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তি মাসিক চার হাজার টাকায় নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে প্রাইভেটকার চালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বাসায় ওঠার পর দিনের বেলায় তাকে তেমন দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে রাতে ওই কক্ষে ভারী জিনিসপত্র রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলেও জানান বাড়ির মালিকের মেয়ে।

এ ঘটনায় সিটিটিসির একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।

এদিকে বুধবার সকালে বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ী এলাকার ঘোড়া মসজিদের সামনে মাঠ থেকে একটি প্রেসার কুকার বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে কাপড়, একটি কোরআন শরিফ এবং স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো প্রেসার কুকার দেখতে পান। প্রেসার কুকার থেকে বৈদ্যুতিক তার বের হয়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানায়। বুধবার বিকেলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, দক্ষিণ শ্যামপুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিটিটিসির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। সেখানে জেএমবির কিছু লিফলেট, ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগ থেকে প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ।