ডিম-কাঁচামরিচের দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 34
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিকভাবে স্বস্তি ফেরেনি ক্রেতাদের মধ্যে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম ও কাঁচামরিচের দাম কমেছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। তবে মাছ, গরুর মাংস ও অধিকাংশ সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে একই পরিমাণ ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম কমেছে প্রায় ১০ টাকা।
কাঁচামরিচের দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল প্রায় ৩০ টাকা বেশি।
সবজির বাজারে অবশ্য তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। পটল প্রতি কেজি ৭০, শসা ৬০, করলা ৮০, বরবটি ৮০, ধুন্দুল ৬০, ঝিঙা ৮০ এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া গোল বেগুন ও কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০, পেঁপে ৪০, ঢ্যাঁড়স ৬০, শিম ২০০, টমেটো ১২০, কচু ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৬০ এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আলী মিয়া বলেন, কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ফলে এর দাম কমেছে। তবে অন্যান্য সবজির সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় সেগুলোর দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বাজার করতে আসা সাব্বির রহমান বলেন, কাঁচামরিচের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম এখনও বেশি। সব ধরনের পণ্যের দাম কমলে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা সহজ হতো।
মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে অবশ্য দামের খুব একটা পরিবর্তন নেই। চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, রুই ৩০০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০, চাষের কই ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। আর রূপচাঁদা, বড় শোল ও নদীর বেলে মাছের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
গরুর মাংসের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ডিম, কাঁচামরিচ ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি। মাছ, মাংস ও অন্যান্য সবজির দাম আরও কমলে তবেই বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
































