বাউন্ডারি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় দীঘিনালার ৭০০ ছাত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 38
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে প্রায় ৭০০ ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারি ও ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বেগে থাকতে হয়। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে এবং আশপাশের এলাকায় ইভটিজিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুসহ দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করতে আসে। প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় তাদের। নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় এসব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ মিতা দাস শ্রেষ্টা বলেন, বিদ্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকলে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দূরের ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করা হলে যাতায়াতের ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয় ২ নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন, মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ইভটিজিং প্রতিরোধে বিদ্যালয়ের আশপাশে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধন মুনি চাকমা বলেন, বাউন্ডারি না থাকায় বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে কিছু বখাটের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে ছাত্রীদের। দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও আবাসিক হোস্টেল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মেয়েদের নির্বিঘ্ন ও নিয়মিত শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।






























