ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবি জীবনানন্দ দাশের ছোঁয়া পেতে বরগুনার সুরঞ্জনায়

বরগুনা থেকে ফিরে রীতা ভৌমিক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 222

প্রকৃতির কবি, প্রেমের কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার নৈসর্গিক ছোঁয়া পেতে ভ্রমণ পিয়াসীরা কদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন বরগুনার ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’।

বরগুনা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গুলবুনিয়া বরইতলা গ্রাম। বরগুনা সদর থেকে এগিয়ে পাকা রাস্তা পেরিয়ে ডানে গুলবুনিয়া বরইতলা গ্রাম।

এই গ্রামের মেঠো পথ ধরে এগুলে চোখে পড়বে দুপাশে গাছের সারি আর ফাঁকে ফাঁকে দু-একটা বাড়ি। এই মেঠো পথ ধরে এগিয়ে মাঝপথে ডানে দেখা মিলবে ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র।

বিশখালী ও খাগদোন নদীর মোহনায় এর অবস্থান। পশ্চিমে সুন্দরবনের জঙ্গল ঘেঁষা প্রকৃতি আর পদ্ম সরোবরে গোলাপি, নীল পদ্মের অপার সৌন্দর্য্য । চারদিকে নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। এরি মাঝে ‘সুরঞ্জনা’র বাস।

‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র নামটি নিয়েছেন কবি জীবনানন্দ দাশের সুরঞ্জনা থেকে। সু মানে ভালো কিছু। রঞ্জনা মানে রাঙিয়ে দেওয়া। ভালো করে যে মনকে রাঙিয়ে দেয়।

‘সুরঞ্জনা’য় প্রবেশের পরই চোখে পড়বে বোর্ডে প্রকৃতির কবি, রূপসী বাংলার কবি বরিশালের জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ’ কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি –
‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ/খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে/ ভোরের দোয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ/
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথেরা করে আছে চুপ;’…।

জন প্রতি ১০০ টাকার টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকে ‘সুরঞ্জনা’র প্রাকৃতিক নিসর্গে হারিয়ে গিয়ে জীবনানন্দ দাশের ‘সুরঞ্জনা’ কবিতাটিও মনে পড়ে যেতে পারে দশণার্থীদের। যেটি তিনি লিখেছিলেন ১৯৫৪ সালে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে।

 

ভোরের স্নিগ্ধতায় বা পড়ন্ত বিকেলে কাঠের সাঁকো পেরিয়ে জলটুঙ্গিতে বসে বা টং ঘরে চা-কফি বা ডাবের পানি পান আর ফুটন্ত পদ্ম সরোবরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে আবৃত্তিও করতে পারেন কবিতাটি –

‘সুরঞ্জনা, আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছো; / পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মতন;/ কালো চোখ মেলে ওই নীলিমা দেখেছো;/ গ্রীক হিন্দু ফিনিশিয় নিয়মের রূঢ় আয়োজন/ শুনেছো ফেনিল শব্দে তিলোত্তমা-নগরীর গায়ে কী চেয়েছে?/ কী পেয়েছে? —গিয়েছে হারায়ে।’…

বা কেউ তার প্রিয়জনের সাথে বসে কাঠের সাঁকোতে পা দোলাতে দোলাতে , কিংবা হাতে হাত রেখে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দয, বাতাসে খেজুর, তাল গাছের শিহরণ রোমন্থন করতে করতে আবৃত্তি করতে পারেন কবি জীবনানন্দের ‘আকাশলীনা’ কবিতাটি – ‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি,/বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে;/ ফিরে এসো সুরঞ্জনা :/ নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;/ ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;/ ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;/ দূর থেকে দূরে – আরও দূরে/ যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকো আর ।’…

নস্টালিজার মধ্যে থাকতে থাকতেই ঘুরে দেখা যাবে সুরঞ্জনা’র অতিথিশালার দিকের পুকুরগুলো। পুকুরে ফুটন্ত নীলপদ্ম দেখে অবশ্যই মনে পড়ে যেতে পারে রামায়নের রামের নীলপদ্মের কথা। রাবনকে বধ করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু, দেবী কিছুতেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না দেখে বিভীষণ রামকে পরামর্শ দেন, ১০৮ নীল পদ্ম দিয়ে দেবীর পুজো করতে । রামের আদেশে হনুমান দেবীদহে গেলেন যেখানেই একমাত্র নীল পদ্ম পাওয়া যায়। পদ্ম আনার পর পুজো করতে করতে রাম দেখলেন, একটি পদ্ম নেই। রাম নিজ পদ্ম সদৃশ চোখ দেবীকে দান করত উদ্যত হলেন। দেবী প্রসন্ন হয়ে তার সামনে আবির্ভূত হয়ে তাকে বিরত করেন । তাঁকে এই বর দেন, তিনি রাবণের থেকে নিজ সুরক্ষা সরিয়ে নেবেন।

তবে এ যুগের রামকে নীল পদ্ম খুঁজতে আর এতো কষ্ট করতে হবে না। ‘সুরঞ্জনা’য় এলেই দেখা মিলবে সেই দুষ্প্রাপ্য নীল পদ্মের। আর এটাও জানতে পারবেন, পদ্ম ফুলের পাতায় নতুন চারার জন্ম হয় ।

ছবি : পদ্ম সরোবর

সৌন্দর্য্য বর্ধনের পাশাপাশি পদ্ম পুকুরে রুই, তেলাপিয়া, দেশীয় মাছের পাশাপাশি মুক্তার চাষও হচ্ছে। দেখা যাবে টার্কি মুরগির অনবদ্য নাচানাচি।

ছবি : টার্কি মুরগির নাচানাচি

ঘুরতে ঘুরতে খিদে পেলে তিনতলার চিলেকোঠার নিচতলায় ‘অরণ্য’ নামে একটি খাবারের স্টলে পাওয়া যাবে ফ্রাই চিকেন, চিকেন পাস্তা, চাওমিন, নুডুলস, চিকেন নুডুলস। জুসের মধ্যে লাস্যি, খেজুরের জুস, বেলের শরবত, লেবুর জুস, পেঁপের জুস, কাঁচা-পাকা আমের জুস। পানীয়ের মধ্যে চা-কফি, কোক ইত্যাদি।

পাখিদের অভয়াশ্রম
এখানে দেখা মিলবে নানা জাতের পাখি। পাখিদের অভয়াশ্রমও এটা। পুকুরের পাড় ঘেঁষে নানা জাতের ফল আম, পেঁপে, জামরুল, ডাউয়া, কাউফল, গাব, সবরি, সাগর, কবরি কলার গাছ। কলার কাঁদি থেকে ঠুকরে ঠুকরে কলা খাচ্ছে শালিক, চড়ুই, টিয়া, ময়না নাম না জানা নানা পাখি । এই ফলগুলো পাখিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।

ছবি : শালিক কলা খাচ্ছে

বৃক্ষাশ্রম ও হাসপাতাল
নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, জমি বিক্রি, ভবন নির্মাণ কিংবা ঝড়ে ভেঙে পড়ার কারণে বহু স্মৃতিবিজড়িত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেই গাছগুলোকে পরম যত্নে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তুলে এনে এখানে রোপণ করেছেন ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র নির্বাহী প্রধান সোহেল হাফিজ। আদর-যত্নে নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়ে তারাও ফুল-ফলে শোভিত হয়েছে।

এই বৃক্ষাশ্রমে কয়েক দফায় ১১টি গাছ দিয়েছেন রোকসানা পারভীন নামে এক ব্যক্তি। সবক’টি গাছই মমতায় বড় করে তুলেছেন সোহেল হাফিজ। যেখানেই ঝড়ে বা কেটে ফেলা গাছ পড়ে রয়েছে সেখানেই ছুটে গেছেন এই গাছপ্রেমী মানুষটি। এভাবেই বৃদ্ধ গাছদের এনে লাগিয়ে রিসোর্টে গড়ে তুলেছেন গাছেদের বৃক্ষাশ্রম ।

এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া গাছ কাউফল, ডেউয়া, বৈলাম, কাঠবাদাম, কদম, তাল, খেজুর, খুদে জাম (পাখিদের খাবার)। কাটা মেহেদির ফলের (মাল্টার মতো দেখতে) দেখাও পাওয়া যাবে এখানে ।

ছবি : প্রকৃতির ছোঁয়া

সুরঞ্জনা’র অতিথিশালা
‘সুরঞ্জনা’র অতিথিশালায় দুটো ডাকবাংলো রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দ্বীপের মধ্যে ঘর। গোলাপি-নীল পদ্ম সরোবরের উপর দিয়ে কাঠের সাঁকো পেরিয়ে যেতেই ছোট্ট উঠোনের পর দুপাশে দুটো ডাকবাংলো। একটি ডাকবাংলোর নাম ডাহুক আরেকটি পানকৌড়ি। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে মেঠো পথে ঢোকার প্রবেশ পথে একটি গেট। এবং পদ্ম সরোবরের উপর কাঠের সাঁকো পেরুনোর আগে আরেকটি গেট। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় প্রকৃতির নিসর্গতা উপভোগ করা যাবে। ডাকবাংলোর সামনেও জামিয়া পাম্প, কয়েকরকমের আম গাছে থোকা থোকা আম, জামরুল, দেশি-বিদেশি আমড়া গাছসহ অনেক গাছ সৌন্দর্যবর্ধন করছে।

ঘুরতে ঘুরতে নামাজের সময় হলে নামাজ পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা। ডাকবাংলোতে থাকলে দিন প্রতি প্রতিটির ভাড়া পড়বে ৪ হাজার টাকা। খাওয়া খরচ নিজের। এখানে ডাইনিংএর ব্যবস্থাও রয়েছে। অবশ্য সেজন্য পেমেন্ট করতে হবে।

ছবি : ডাহুক ও পানকৌড়ি

সুরঞ্জনা’র যাত্রা
সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টের যাত্রা সম্পর্কে নির্বাহী প্রধান ও সাংবাদিক সোহেল হাফিজ জানালেন, ২০২০ সালের শেষ বাবাকে হারাই। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছু একটা করব ভাবছিলাম। নির্জন প্রকৃতিপ্রেমীদের কথা ভেবে দেখলাম, নিজের জন্মভূমিতে কিছু করবো। বরগুনায় স্নিগ্ধ দীপবন, বিস্তীর্ণ জলমোহনা আছে। রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভবনা। এখানে কেউ বেড়াতে বা ঘুরতে এলে বলেন বরগুনায় কোথাও ঘুরতে যাওয়ার নেই। বরগুনা বিনোদন বঞ্চিত উপকূলীয় জেলা। মানুষের বিনোদনের কোনো সুযোগ নাই। শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি সরকারি শিশু পার্কও নেই। এমন পরিস্থিতিতে, মানুষের নিমল বিনোদনের জন্য একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল। যে কারণে যখন আমি এই উদ্যোগ নিই জেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে। কিছু জমি মালিকদের কাছ থেকে ৩০ বছরের লিজ নিয়েছি। অল্প কিছু জমি কিনেছি। কিছু সরকারের খাস জমির জন্য আবেদন করেছি।

একজন বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে একটু একটু করে এগুচ্ছি। ২০২১ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের অনেক গাছ অভিভাবকহীন থাকার কারণে ঝড়ে পড়ে যায়। কাটা পড়ে সড়ক সম্প্রসারণের কারণে। যে গাছের উডেন ভ্যালু আছে সেই গাছ কেটে নিয়ে যায়। যেটার উডেন ভ্যালু নাই সেটা পড়ে থাকে, মরে যায়।

অন্যদিকে আমরা একটা গাছ বড় করার জন্য দীর্ঘ ১২ বছর ১৫ বছর অপেক্ষা করি। এসব দেখে বৃক্ষ পুনর্বাসনের ভাবনা এলো। সিদ্ধান্ত নেই, গাছগুলোকে আমরা পুনর্বাসিত করবো। প্রকৃতিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা দেখলাম, যত বড় ২০ বা ৩০ বছরের গাছই হোক যদি বর্ষা মৌসুমে ওই গাছ তুলে এনে লাগানো যায়, তাহলে বাঁচানো সম্ভব। একটি কাঠবাদাম গাছ শ্রমিকেরা ফেলে দিয়েছিল। তাদের সহায়তায় সেটা এনে লাগিয়েছি। সেটা থেকে এখন অনেক চারা হয়েছে। আরেকটি গাছ লাগিয়েছি বৈলাম গাছ। এটি ৪০০ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। ৭০০ বছর বেঁচে থাকে।

 


ছবি : সোহেল হাফিজ

এভাবে গাছ লাগানো শুরু করলাম। পাখিদের জন্য পাখির অভয়াশ্রম করলাম। আমরা যে গাছ লাগাই, বা সরকারিভাবে রাস্তার দুপাশে বা বেরিবাঁধে যে গাছ লাগানো হয়, সে গাছে কোনো ফল নেই, পাখির খাওয়ার মতো। আমরা শিশু, বাবলা, মেহগনি এসব গাছ লাগিয়ে বেরি বাঁধ বা রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করি। ওগুলো না লাগিয়ে ফলের বৃক্ষ তাল, খেজুর, ডেউয়া, গাব, আম, জাম এসব লাগালে মানুষের ফলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাখিদেরও খাদ্য সংস্থান হয়। খাবারের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রে যদি পাখিদের অভয়ারণ্য থাকে। সেটিও দশণার্থীদের ভালো লাগবে। আমরাও জীববৈচিত্র্য সংগ্রহে কিছু করতে পারলাম।

পাখিদের কথা উঠতেই সোহেল হাফিজ আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ফল গাছ সব উন্মুক্ত করে দিয়েছি পাখিদের জন্যে। কোনো ফলই গাছ থেকে পারা হয় না। নতুন করে ১০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। অনেক প্রজাতির কলা আছে, সবরি কলা, কাঁঠালি কলা, সাগর কলা, কাবলি কলা সব পাখিদের জন্যে।

স্থানীয় মানুষরা প্রকৃতি দেখার জন্য এখানে আগ্রহ নিয়ে আসেন। পুকুরের কাছে গিয়ে নীল পদ্ম, গোলাপি পদ্ম ফুলকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া। দেশি বিলুপ্ত ফল কাউফল, ডেউয়া, কাঠবাদাম, তাল, খেজুর এসব ফলকে গুরুত্ব দিয়েছি।

রয়েছে অডিটোরিয়াম, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

খোলা উদ্যানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় মঞ্চ। এছাড়াও সেমিনার, সিমনোজিয়ামের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় হলরুম। বারান্দায় খাবারের ব্যবস্থার জন্য অনেকগুলো টেবিল-চেয়ার পাতা রয়েছে। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কবি জীবনানন্দ দাশের ছোঁয়া পেতে বরগুনার সুরঞ্জনায়

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

প্রকৃতির কবি, প্রেমের কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার নৈসর্গিক ছোঁয়া পেতে ভ্রমণ পিয়াসীরা কদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন বরগুনার ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’।

বরগুনা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গুলবুনিয়া বরইতলা গ্রাম। বরগুনা সদর থেকে এগিয়ে পাকা রাস্তা পেরিয়ে ডানে গুলবুনিয়া বরইতলা গ্রাম।

এই গ্রামের মেঠো পথ ধরে এগুলে চোখে পড়বে দুপাশে গাছের সারি আর ফাঁকে ফাঁকে দু-একটা বাড়ি। এই মেঠো পথ ধরে এগিয়ে মাঝপথে ডানে দেখা মিলবে ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র।

বিশখালী ও খাগদোন নদীর মোহনায় এর অবস্থান। পশ্চিমে সুন্দরবনের জঙ্গল ঘেঁষা প্রকৃতি আর পদ্ম সরোবরে গোলাপি, নীল পদ্মের অপার সৌন্দর্য্য । চারদিকে নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। এরি মাঝে ‘সুরঞ্জনা’র বাস।

‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র নামটি নিয়েছেন কবি জীবনানন্দ দাশের সুরঞ্জনা থেকে। সু মানে ভালো কিছু। রঞ্জনা মানে রাঙিয়ে দেওয়া। ভালো করে যে মনকে রাঙিয়ে দেয়।

‘সুরঞ্জনা’য় প্রবেশের পরই চোখে পড়বে বোর্ডে প্রকৃতির কবি, রূপসী বাংলার কবি বরিশালের জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ’ কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি –
‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ/খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে/ ভোরের দোয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ/
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথেরা করে আছে চুপ;’…।

জন প্রতি ১০০ টাকার টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকে ‘সুরঞ্জনা’র প্রাকৃতিক নিসর্গে হারিয়ে গিয়ে জীবনানন্দ দাশের ‘সুরঞ্জনা’ কবিতাটিও মনে পড়ে যেতে পারে দশণার্থীদের। যেটি তিনি লিখেছিলেন ১৯৫৪ সালে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে।

 

ভোরের স্নিগ্ধতায় বা পড়ন্ত বিকেলে কাঠের সাঁকো পেরিয়ে জলটুঙ্গিতে বসে বা টং ঘরে চা-কফি বা ডাবের পানি পান আর ফুটন্ত পদ্ম সরোবরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে আবৃত্তিও করতে পারেন কবিতাটি –

‘সুরঞ্জনা, আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছো; / পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মতন;/ কালো চোখ মেলে ওই নীলিমা দেখেছো;/ গ্রীক হিন্দু ফিনিশিয় নিয়মের রূঢ় আয়োজন/ শুনেছো ফেনিল শব্দে তিলোত্তমা-নগরীর গায়ে কী চেয়েছে?/ কী পেয়েছে? —গিয়েছে হারায়ে।’…

বা কেউ তার প্রিয়জনের সাথে বসে কাঠের সাঁকোতে পা দোলাতে দোলাতে , কিংবা হাতে হাত রেখে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দয, বাতাসে খেজুর, তাল গাছের শিহরণ রোমন্থন করতে করতে আবৃত্তি করতে পারেন কবি জীবনানন্দের ‘আকাশলীনা’ কবিতাটি – ‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি,/বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে;/ ফিরে এসো সুরঞ্জনা :/ নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;/ ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;/ ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;/ দূর থেকে দূরে – আরও দূরে/ যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকো আর ।’…

নস্টালিজার মধ্যে থাকতে থাকতেই ঘুরে দেখা যাবে সুরঞ্জনা’র অতিথিশালার দিকের পুকুরগুলো। পুকুরে ফুটন্ত নীলপদ্ম দেখে অবশ্যই মনে পড়ে যেতে পারে রামায়নের রামের নীলপদ্মের কথা। রাবনকে বধ করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু, দেবী কিছুতেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না দেখে বিভীষণ রামকে পরামর্শ দেন, ১০৮ নীল পদ্ম দিয়ে দেবীর পুজো করতে । রামের আদেশে হনুমান দেবীদহে গেলেন যেখানেই একমাত্র নীল পদ্ম পাওয়া যায়। পদ্ম আনার পর পুজো করতে করতে রাম দেখলেন, একটি পদ্ম নেই। রাম নিজ পদ্ম সদৃশ চোখ দেবীকে দান করত উদ্যত হলেন। দেবী প্রসন্ন হয়ে তার সামনে আবির্ভূত হয়ে তাকে বিরত করেন । তাঁকে এই বর দেন, তিনি রাবণের থেকে নিজ সুরক্ষা সরিয়ে নেবেন।

তবে এ যুগের রামকে নীল পদ্ম খুঁজতে আর এতো কষ্ট করতে হবে না। ‘সুরঞ্জনা’য় এলেই দেখা মিলবে সেই দুষ্প্রাপ্য নীল পদ্মের। আর এটাও জানতে পারবেন, পদ্ম ফুলের পাতায় নতুন চারার জন্ম হয় ।

ছবি : পদ্ম সরোবর

সৌন্দর্য্য বর্ধনের পাশাপাশি পদ্ম পুকুরে রুই, তেলাপিয়া, দেশীয় মাছের পাশাপাশি মুক্তার চাষও হচ্ছে। দেখা যাবে টার্কি মুরগির অনবদ্য নাচানাচি।

ছবি : টার্কি মুরগির নাচানাচি

ঘুরতে ঘুরতে খিদে পেলে তিনতলার চিলেকোঠার নিচতলায় ‘অরণ্য’ নামে একটি খাবারের স্টলে পাওয়া যাবে ফ্রাই চিকেন, চিকেন পাস্তা, চাওমিন, নুডুলস, চিকেন নুডুলস। জুসের মধ্যে লাস্যি, খেজুরের জুস, বেলের শরবত, লেবুর জুস, পেঁপের জুস, কাঁচা-পাকা আমের জুস। পানীয়ের মধ্যে চা-কফি, কোক ইত্যাদি।

পাখিদের অভয়াশ্রম
এখানে দেখা মিলবে নানা জাতের পাখি। পাখিদের অভয়াশ্রমও এটা। পুকুরের পাড় ঘেঁষে নানা জাতের ফল আম, পেঁপে, জামরুল, ডাউয়া, কাউফল, গাব, সবরি, সাগর, কবরি কলার গাছ। কলার কাঁদি থেকে ঠুকরে ঠুকরে কলা খাচ্ছে শালিক, চড়ুই, টিয়া, ময়না নাম না জানা নানা পাখি । এই ফলগুলো পাখিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।

ছবি : শালিক কলা খাচ্ছে

বৃক্ষাশ্রম ও হাসপাতাল
নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, জমি বিক্রি, ভবন নির্মাণ কিংবা ঝড়ে ভেঙে পড়ার কারণে বহু স্মৃতিবিজড়িত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেই গাছগুলোকে পরম যত্নে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তুলে এনে এখানে রোপণ করেছেন ‘সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে’র নির্বাহী প্রধান সোহেল হাফিজ। আদর-যত্নে নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়ে তারাও ফুল-ফলে শোভিত হয়েছে।

এই বৃক্ষাশ্রমে কয়েক দফায় ১১টি গাছ দিয়েছেন রোকসানা পারভীন নামে এক ব্যক্তি। সবক’টি গাছই মমতায় বড় করে তুলেছেন সোহেল হাফিজ। যেখানেই ঝড়ে বা কেটে ফেলা গাছ পড়ে রয়েছে সেখানেই ছুটে গেছেন এই গাছপ্রেমী মানুষটি। এভাবেই বৃদ্ধ গাছদের এনে লাগিয়ে রিসোর্টে গড়ে তুলেছেন গাছেদের বৃক্ষাশ্রম ।

এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া গাছ কাউফল, ডেউয়া, বৈলাম, কাঠবাদাম, কদম, তাল, খেজুর, খুদে জাম (পাখিদের খাবার)। কাটা মেহেদির ফলের (মাল্টার মতো দেখতে) দেখাও পাওয়া যাবে এখানে ।

ছবি : প্রকৃতির ছোঁয়া

সুরঞ্জনা’র অতিথিশালা
‘সুরঞ্জনা’র অতিথিশালায় দুটো ডাকবাংলো রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দ্বীপের মধ্যে ঘর। গোলাপি-নীল পদ্ম সরোবরের উপর দিয়ে কাঠের সাঁকো পেরিয়ে যেতেই ছোট্ট উঠোনের পর দুপাশে দুটো ডাকবাংলো। একটি ডাকবাংলোর নাম ডাহুক আরেকটি পানকৌড়ি। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে মেঠো পথে ঢোকার প্রবেশ পথে একটি গেট। এবং পদ্ম সরোবরের উপর কাঠের সাঁকো পেরুনোর আগে আরেকটি গেট। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় প্রকৃতির নিসর্গতা উপভোগ করা যাবে। ডাকবাংলোর সামনেও জামিয়া পাম্প, কয়েকরকমের আম গাছে থোকা থোকা আম, জামরুল, দেশি-বিদেশি আমড়া গাছসহ অনেক গাছ সৌন্দর্যবর্ধন করছে।

ঘুরতে ঘুরতে নামাজের সময় হলে নামাজ পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা। ডাকবাংলোতে থাকলে দিন প্রতি প্রতিটির ভাড়া পড়বে ৪ হাজার টাকা। খাওয়া খরচ নিজের। এখানে ডাইনিংএর ব্যবস্থাও রয়েছে। অবশ্য সেজন্য পেমেন্ট করতে হবে।

ছবি : ডাহুক ও পানকৌড়ি

সুরঞ্জনা’র যাত্রা
সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টের যাত্রা সম্পর্কে নির্বাহী প্রধান ও সাংবাদিক সোহেল হাফিজ জানালেন, ২০২০ সালের শেষ বাবাকে হারাই। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছু একটা করব ভাবছিলাম। নির্জন প্রকৃতিপ্রেমীদের কথা ভেবে দেখলাম, নিজের জন্মভূমিতে কিছু করবো। বরগুনায় স্নিগ্ধ দীপবন, বিস্তীর্ণ জলমোহনা আছে। রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভবনা। এখানে কেউ বেড়াতে বা ঘুরতে এলে বলেন বরগুনায় কোথাও ঘুরতে যাওয়ার নেই। বরগুনা বিনোদন বঞ্চিত উপকূলীয় জেলা। মানুষের বিনোদনের কোনো সুযোগ নাই। শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি সরকারি শিশু পার্কও নেই। এমন পরিস্থিতিতে, মানুষের নিমল বিনোদনের জন্য একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল। যে কারণে যখন আমি এই উদ্যোগ নিই জেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে। কিছু জমি মালিকদের কাছ থেকে ৩০ বছরের লিজ নিয়েছি। অল্প কিছু জমি কিনেছি। কিছু সরকারের খাস জমির জন্য আবেদন করেছি।

একজন বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে একটু একটু করে এগুচ্ছি। ২০২১ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের অনেক গাছ অভিভাবকহীন থাকার কারণে ঝড়ে পড়ে যায়। কাটা পড়ে সড়ক সম্প্রসারণের কারণে। যে গাছের উডেন ভ্যালু আছে সেই গাছ কেটে নিয়ে যায়। যেটার উডেন ভ্যালু নাই সেটা পড়ে থাকে, মরে যায়।

অন্যদিকে আমরা একটা গাছ বড় করার জন্য দীর্ঘ ১২ বছর ১৫ বছর অপেক্ষা করি। এসব দেখে বৃক্ষ পুনর্বাসনের ভাবনা এলো। সিদ্ধান্ত নেই, গাছগুলোকে আমরা পুনর্বাসিত করবো। প্রকৃতিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা দেখলাম, যত বড় ২০ বা ৩০ বছরের গাছই হোক যদি বর্ষা মৌসুমে ওই গাছ তুলে এনে লাগানো যায়, তাহলে বাঁচানো সম্ভব। একটি কাঠবাদাম গাছ শ্রমিকেরা ফেলে দিয়েছিল। তাদের সহায়তায় সেটা এনে লাগিয়েছি। সেটা থেকে এখন অনেক চারা হয়েছে। আরেকটি গাছ লাগিয়েছি বৈলাম গাছ। এটি ৪০০ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। ৭০০ বছর বেঁচে থাকে।

 


ছবি : সোহেল হাফিজ

এভাবে গাছ লাগানো শুরু করলাম। পাখিদের জন্য পাখির অভয়াশ্রম করলাম। আমরা যে গাছ লাগাই, বা সরকারিভাবে রাস্তার দুপাশে বা বেরিবাঁধে যে গাছ লাগানো হয়, সে গাছে কোনো ফল নেই, পাখির খাওয়ার মতো। আমরা শিশু, বাবলা, মেহগনি এসব গাছ লাগিয়ে বেরি বাঁধ বা রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করি। ওগুলো না লাগিয়ে ফলের বৃক্ষ তাল, খেজুর, ডেউয়া, গাব, আম, জাম এসব লাগালে মানুষের ফলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাখিদেরও খাদ্য সংস্থান হয়। খাবারের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রে যদি পাখিদের অভয়ারণ্য থাকে। সেটিও দশণার্থীদের ভালো লাগবে। আমরাও জীববৈচিত্র্য সংগ্রহে কিছু করতে পারলাম।

পাখিদের কথা উঠতেই সোহেল হাফিজ আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ফল গাছ সব উন্মুক্ত করে দিয়েছি পাখিদের জন্যে। কোনো ফলই গাছ থেকে পারা হয় না। নতুন করে ১০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। অনেক প্রজাতির কলা আছে, সবরি কলা, কাঁঠালি কলা, সাগর কলা, কাবলি কলা সব পাখিদের জন্যে।

স্থানীয় মানুষরা প্রকৃতি দেখার জন্য এখানে আগ্রহ নিয়ে আসেন। পুকুরের কাছে গিয়ে নীল পদ্ম, গোলাপি পদ্ম ফুলকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া। দেশি বিলুপ্ত ফল কাউফল, ডেউয়া, কাঠবাদাম, তাল, খেজুর এসব ফলকে গুরুত্ব দিয়েছি।

রয়েছে অডিটোরিয়াম, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

খোলা উদ্যানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় মঞ্চ। এছাড়াও সেমিনার, সিমনোজিয়ামের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় হলরুম। বারান্দায় খাবারের ব্যবস্থার জন্য অনেকগুলো টেবিল-চেয়ার পাতা রয়েছে। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।