প্রধানমন্ত্রীর সফরে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ
মুক্তবাণিজ্যে বাংলাদেশ-চীন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 604
বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। এই বিশাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর চীন প্রদত্ত বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা আর বহাল থাকবে না। ফলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অত্যন্ত জরুরি। ইতোমধ্যে দুই দেশের যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এই সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রত্যক্ষ বা ভৌত আলোচনা (Physical Negotiation) শুরুর বিষয়ে বড় অগ্রগতি হতে পারে। এছাড়া অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে।
এই সফরে বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য বড় অর্জন হতে পারে চীনে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রোটোকল স্বাক্ষর। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, এই প্রোটোকল কার্যকর হলে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি ফলের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
অর্থনৈতিক অঞ্চল: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা ইকোনমিক জোনের পর এবার মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় অগ্রগতি হতে পারে।
ব্যাংকিং ও মুদ্রা বিনিময়: দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে।
অবকাঠামো ও সেতু: মোংলা পোর্টের আধুনিকায়নে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি এবং নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে ‘লেটার অব এক্সচেঞ্জ’ বিনিময় হতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা: বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (GDI)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীন প্রদত্ত শুল্ক সুবিধার সুযোগ আমরা অতীতে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি, এখন সময় এসেছে তা করার। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় বিসিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি বাংলাদেশি পণ্যের আউটলেট স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন এবং দুই দেশের নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যিক এলসি সহজ করতে বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা।
































