অনলাইন জুয়া দমনে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সাজা প্রস্তাব
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 115
অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংসহ নানা ধরনের অপরাধ দমনে নতুন একটি আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ শীর্ষক নতুন একটি আইন উত্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শত বছরেরও বেশি পুরোনো জুয়া সংক্রান্ত আইন বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। সরকার মনে করছে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, অনলাইন বেটিং এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া নিয়ন্ত্রণে পুরোনো আইন কার্যকর ছিল না।
নতুন প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি ও বিভিন্ন ধরনের অর্থভিত্তিক অনৈতিক কার্যক্রমসহ মোট ২৪টি বিষয়কে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির কাঠামোও নির্ধারণ করা হয়েছে একাধিক স্তরে।
সাধারণ জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা বড় অঙ্কের জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে, যেখানে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় শত বছরের পুরোনো আইন বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় কার্যকরভাবে কাজ করছে না। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভুয়া মোবাইল আর্থিক হিসাব, ভিপিএন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত এসব অপরাধ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে বলে সরকার মনে করছে।
প্রস্তাবিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

































