ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 124

নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার

নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমারী রেখা রানী। ২০১৪ সালে নার্স হিসেবে কর্মজীবন শেষে অবসর নেওয়ার পর বুড়ুয়া গ্রামে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ভবনে রূপ নিলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় পড়েছে। কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে বিদ্যালয়টির পাশে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার বুড়ুয়া গ্রামে অবস্থিত কুমারী রেখা রানী গার্লস হাইস্কুল পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কুমারী রেখা রানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর জীবনসংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন পুলিশ সুপার। পরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে অসুস্থ রেখা রানীর চিকিৎসা এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন পুলিশ সুপার।

মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গণমাধ্যমে রেখা রানীর ত্যাগের কথা জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়টি দেখতে এসেছেন। সরেজমিনে এসে দেখেছেন, বিদ্যালয়ের ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরাও কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর জীবনসংগ্রামের কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে নিজের সবকিছু ব্যয় করেছেন। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির বিষয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন।

নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার
নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার

পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু সমস্যার কথা শুনে চলে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অবস্থা নিজের চোখে দেখতেই তিনি সরেজমিনে এসেছেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন তিনি।

পরে বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এবং প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পুলিশের এই সহযোগিতায় আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেখা রানী।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নার্স হিসেবে কর্মজীবন শেষে অবসর নেওয়ার পর নিজের পেনশনের অর্থ দিয়ে কুমারী রেখা রানী মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট্ট টিনের ঘর থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি ভবনে রূপ নিলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে গেছে এবং পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর প্রত্যাশা, জীবদ্দশাতেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা এবং এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসে সেই প্রত্যাশা পূরণের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমারী রেখা রানী। ২০১৪ সালে নার্স হিসেবে কর্মজীবন শেষে অবসর নেওয়ার পর বুড়ুয়া গ্রামে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ভবনে রূপ নিলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় পড়েছে। কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে বিদ্যালয়টির পাশে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার বুড়ুয়া গ্রামে অবস্থিত কুমারী রেখা রানী গার্লস হাইস্কুল পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কুমারী রেখা রানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর জীবনসংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন পুলিশ সুপার। পরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে অসুস্থ রেখা রানীর চিকিৎসা এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন পুলিশ সুপার।

মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গণমাধ্যমে রেখা রানীর ত্যাগের কথা জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়টি দেখতে এসেছেন। সরেজমিনে এসে দেখেছেন, বিদ্যালয়ের ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরাও কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর জীবনসংগ্রামের কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে নিজের সবকিছু ব্যয় করেছেন। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির বিষয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন।

নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার
নিজের পেনশনে স্কুল, এবার পাশে পুলিশ সুপার

পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু সমস্যার কথা শুনে চলে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অবস্থা নিজের চোখে দেখতেই তিনি সরেজমিনে এসেছেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন তিনি।

পরে বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এবং প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পুলিশের এই সহযোগিতায় আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেখা রানী।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নার্স হিসেবে কর্মজীবন শেষে অবসর নেওয়ার পর নিজের পেনশনের অর্থ দিয়ে কুমারী রেখা রানী মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট্ট টিনের ঘর থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি ভবনে রূপ নিলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে গেছে এবং পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা রেখা রানীর প্রত্যাশা, জীবদ্দশাতেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা এবং এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসে সেই প্রত্যাশা পূরণের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।