প্রধান বিচারপতি
আদালতে এআই দিয়ে রায় লেখা অনৈতিক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
আদালতের রায় লেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ না হলেও তা অনৈতিক ও অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
শনিবার সকালে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা উচিত নয়। এটি হয়তো বেআইনি নয়, তবে যথাযথ নয় এবং নৈতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়।
রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাক্ট, আইন এবং বিচারকের বিবেক বা নৈতিকতা; এই তিনটির সমন্বয়েই একটি রায় তৈরি হয়। বিচারকের বিবেক ও চিন্তাশক্তিকে এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, মানুষ যদি নিজের চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার সক্ষমতা ও মর্যাদা কমে যাবে। তাই বিচারকদের এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। রায় লিখতে হবে নিজের বুদ্ধি-বিবেক ও আইন প্রয়োগ করে।
এআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের আগে তা যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, এআই কোথায় এবং কী পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে আইন থাকা প্রয়োজন।
এআইয়ের ভুল তথ্যের ঝুঁকি তুলে ধরে একটি বিদেশি মামলার উদাহরণ দেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, এক মামলায় এআইয়ের মাধ্যমে দেওয়া কিছু কেস রেফারেন্সের ভিত্তিতে বিচারপতি রায় দেন। পরে ওই রায় আরও কয়েকটি আদালত অনুসরণ করে। কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, উল্লেখ করা মামলাগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এতে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা বিব্রত হন। এ ঘটনা এআইয়ের তথ্য যাচাই না করে ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান; সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু মানুষ। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
এআইয়ের ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিটিকে স্বাগত জানাতে হবে এবং এর সঙ্গে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। তবে মানুষের মৌলিক অধিকারের বিনিময়ে এআই ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার। এআই ব্যবহারের কারণে এসব অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা অসাংবিধানিক হয়ে যেতে পারে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই নিয়ে আমরা আশাবাদী ও উৎসাহিত হতে পারি। তবে একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে।




























