আড়াইহাজারে তিন মাসে নিখোঁজ ৪০ কিশোরী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় কিশোরী নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিখোঁজ কিশোরীদের অনেকেই মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে থাকতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার পেছনে একই কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক দিনেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক জিডি করা হয়। নিখোঁজদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এরই মধ্যে দুজনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি দুজনের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রয়েছে। বিভিন্ন মুঠোফোন অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচিত বা অপরিচিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের পর অনেকের সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। পরে পারিবারিক বাধা, অভিভাবকের শাসন কিংবা সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, গত তিন মাসে কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় ৪০টি জিডি হয়েছে। কোনো কিশোরী নিখোঁজ হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, নিখোঁজ কিশোরীর সাম্প্রতিক ছবি, মুঠোফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সম্ভাব্য কোথায় যেতে পারে; এসব তথ্য দ্রুত পুলিশকে দিলে অনুসন্ধানে সুবিধা হয়। পাশাপাশি নিখোঁজ কিশোরীরা কোনো ধরনের প্রলোভন, চাপ বা প্রতারণার শিকার হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে সব নিখোঁজের ঘটনাকে প্রেমের সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কিশোর বয়সের আবেগ, পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতনতা এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবও এসব ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এক অভিভাবক বলেন, সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় অনেক পরিবার কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করতে চায় না। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে পুলিশকে জানাতেও অনেকে দেরি করেন।
আরেক অভিভাবক বলেন, কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। দ্রুত পুলিশকে জানালে অন্তত তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোরীদের ঘর ছাড়ার পেছনে শুধু মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। পারিবারিক যোগাযোগ, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশ, অভিভাবকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং অনলাইনে নিরাপদ যোগাযোগের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, শুধু মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া বা শাসন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।





























