প্রকৌশলীর ঘুষকাণ্ডে নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ বিভাগ!
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 87
রাজধানীর বনশ্রীতে বিদ্যুতের এক গ্রাহকের কাছ দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও গ্রাহককে লাঞ্চিত করার ঘটনায় অবশেষে তদন্ত কমিটি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে এর আগে দুই পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা অ্যাফেয়ার্স।
অভিযোগ অনুযায়ি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী- ডিপিডিসি’র বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো: আতাউর কবির প্রামানিক ওরফে আতাউর রহমান প্রামানিকের বিরুদ্ধে গত ৭ মে সেলিম রেজা নামে এক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।
অভিযোগে দাবি করা হয়, রাজধানীর বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের মাঝে ডিপিডিসি’র একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। সেটি সরানোর জন্য সহকারী প্রকৌশলী মো: আতাউর কবির দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন এবং আরো এক লাখ টাকা দাবি করেছেন। যা না দেওয়ায় গ্রাহকের প্রতিনিধি সাব-স্টেশন ব্যবসায়ী মো. রাশেদকে লাঞ্চিত করা হয়েছে।
বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদকে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানী অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নং-২৭,০০,০০০০,০৮৮.২৭.০০১.২৪.২৩৮) আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো: আতাউর কবির প্রামানিক গত কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকায় বনশ্রী অফিসে বিভিন্ন গ্রাহক তার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এসব গ্রাহকদের কাছ থেকে আতাউর কবির প্রামানিক বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও লোড বৃদ্ধি করে দেওয়ার নাম করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগি গ্রাহকরা জানিয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে ঐ গ্রাহকরা।
বাংলা অ্যাফেয়ার্সের এক প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার সকালে বনশ্রী অফিসে দেখতে পায়, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা বেশিরভাগ কর্মকর্তাই অফিস করছেন। আতাউর কবির সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুল। বনশ্রী ডিভিশনের বাৎসরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (সিএসএস) কর্মকর্তা রানাও রয়েছে বহাল তবিয়তে। এছাড়া সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরাও (দালাল) বসে নেই। ঈদকে পুঁজি করে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ লুট, বিভিন্নভাবে দুর্নীতি করে ও স্বেচ্ছাচারিতাও বেড়েছে।
বনশ্রী কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আতাউর কবিরের মগবাজারে রয়েছে দুই আলিশান ফ্ল্যাট ও নন্দীপাড়ায় রয়েছে তার প্লট। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আতাউর কবির ডিপিডিসিতে কাজে যোগদান করেছেন ২০১৯ সালে। রাতারাতি এত সম্পদের মালিক বনে যাওয়া মানে এই নয় যে- তিনি আলদিনের চেরাগ পেয়েছেন!
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, তাকে রক্ষা করার জন্য মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সংস্থাটির শীর্ষ কয়েকজন প্রকৌশলী। তবে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে ওই শীর্ষ প্রকৌশলীদের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী কোনরকম সাময়িক বরখাস্ত অথবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয় ডিপিডিসির এইচআর দপ্তরে। ওই দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান কার্যালয়ের কর্তাব্যাক্তিরা বিষয়টি অবগত হয়েছেন। মো: আতাউর কবির এবং ঐ ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুলের বিষয়েও তারা গণমাধ্যম থেকে তথ্য পেয়েছেন। কিন্তু এই মুহুর্তে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তিকরে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাময়িক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার কারণে। তাঁরা হলেন- ডিপিডিসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মোঃ রবিউল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রালের অতিরিক্ত দায়িত্ব) মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার, বনশ্রী সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন।
তারা বলছেন, গ্রাহক যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগ দিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় সংস্থাটির ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলছে ঐ দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তার খুঁটির জোড় কোথায়? তাই ডিপিডিসি চাইলেই ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকুরির বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অথবা সাময়িক বরখাস্ত করতে আইনগত কোন বাঁধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ডিপিডিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বনশ্রীর অভিযুক্ত ঐ প্রকৌশলী গত দুই তিনদিন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মহল ও বিদ্যুৎ বিভাগে যোগাযোগ রাখছে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।
এদিকে অভিযোগকারী গ্রাহকের পক্ষে থাকা ঠিকাদার রাশেদকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আতাউর কবিরের সিন্ডিকেটের হুমকির কারণে ঠিকাদার রাশেদ বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চতুর্থ পর্বে আসছে আতাউর কবির ও তার সিন্ডিকেটদের বিস্তারিত আমলনামা।
এ সংক্রান্ত আরো খবর:






































