রামিসা হত্যার প্রতিবাদে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 22
রামিসার (৭) উপর সংঘটিত নির্মম ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি এ আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্যাতন ও হত্যাকান্ড শুধু একটি ফৌজদারী অপরাধ নয়, এটি মানবতা, সভ্যতা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে চরম আঘাত।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি মনে করে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি রামিসা হত্যার সাথে জাড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
একই সাথে এই ধরনের যে কোন ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের সকলকে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভুলে মানুষ হিসেবে সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি সকল নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর, দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
রামিসার ঘটনায় ন্যায়বিচার এবং শিশু সুরক্ষা জোরদারে জরুরি পদক্ষেপের দাবি
-আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস। কোয়ালিশন মনে করে, এই নৃশংস ঘটনা শুধু একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশে শিশুদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে জবাবদিহি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস (ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ)
সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রামিসার ঘটনা সেই বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের অধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহনীয় নয়।
সসাম্প্রতিক তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন; এর মধ্যে মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ৪৭৯টি।
গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৪৭৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে, ১১১ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে এবং ১৫৬ জন আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালে কন্যাশিশু ধর্ষণের প্রকাশিত ঘটনা ছিল ২৯২টি। এসব সংখ্যা শুধু প্রকাশিত ঘটনার চিত্র তুলে ধরে; ভয়, সামাজিক অপবাদ ও সামাজিক চাপের কারণে বহু ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়।
কোয়ালিশন রামিসার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও শিশুবান্ধব তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে এটি জোর দিয়ে বলছে যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের বিলম্ব, হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (ইউএনসিআরসি) এবং সিডওCEDAW-এর অধীনে নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বিদ্যমান জরুরি ঘাটতিগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যেগুলো প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে।
কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে কোয়ালিশন
• রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও শিশু-সংবেদনশীল তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
• স্বাধীন শিশু সংস্কার কমিশন গঠন করা।
• শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার সব মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শিশুবান্ধব এবং নির্যাতনের শিকার শিশুকেন্দ্রিক করা।
• নির্যাতনের শিকার শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
• ভয়ভীতি, আপস, প্রভাব বা অন্য কোনো উপায়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করা।
• শিশুবিষয়ক একটি পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।
• বিদ্যালয়, কমিউনিটি, অনলাইন পরিসর এবং থানায় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা।
• শিশু নির্যাতন নিয়ে নীরবতা ভাঙতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
• শিশু নির্যাতনের ঘটনার জন্য স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা।
• যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রস্তাবিত আইন দ্রুত প্রণয়ন করা।
কোয়ালিশন আরো বলেছে, রামিসার জন্য ন্যায়বিচার বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।




































