ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 6

রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত এখনো অনিরাপদ, অস্বস্তিকর ও হয়রানিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, নারী যাত্রী, সাংবাদিক ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, শুধু আলাদা নারী বাস চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে নিরাপদ, মানবিক ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথোরিটি (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় গবেষণা জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ও প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম। আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী যাত্রী ও সাংবাদিকরা জানান, কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য এখনো অধিকাংশ নারী বাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথেই তারা নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন।

নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, গণপরিবহন সবার জন্য হলেও বাস্তবে নারীদের প্রতিদিন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাসের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে শরীরে হাত দেওয়া, ইচ্ছাকৃত স্পর্শ ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তিনি বলেন, অনেক নারী এসব অভিজ্ঞতার কথা পরিবারেও বলতে পারেন না, যা তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ গণপরিবহন অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি বাসে অভিযোগ নম্বর, আচরণবিধি ও নারীদের হয়রানির শাস্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান তিনি।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে দক্ষ নারী বাসচালকের অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারী যাত্রীদের চলাচল, সমস্যা ও যাত্রীচাপ বিষয়ে সমন্বিত তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতরে নয়; বাসস্টপে যাওয়া, বাসে ওঠা-নামা এবং বাসা পর্যন্ত ফেরার পুরো পথেই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। তিনি বাসে সিসিটিভি, কার্যকর সংরক্ষিত আসন, আলাদা ওঠা-নামার দরজা এবং নিরাপদ ফুটপাত ও বাসস্টপ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

মো. সাইফুল আলম বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সাময়িক সমাধান হতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধান হলো সবার জন্য নিরাপদ ও মানবিক গণপরিবহন নিশ্চিত করা। চালক-হেলপারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী কাউন্টারকর্মীরাও কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক আচরণ ও প্রয়োজনীয় টয়লেট সুবিধার অভাবের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা ও আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনো বড় সংকট

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত এখনো অনিরাপদ, অস্বস্তিকর ও হয়রানিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, নারী যাত্রী, সাংবাদিক ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, শুধু আলাদা নারী বাস চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে নিরাপদ, মানবিক ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথোরিটি (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় গবেষণা জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ও প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম। আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী যাত্রী ও সাংবাদিকরা জানান, কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য এখনো অধিকাংশ নারী বাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথেই তারা নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন।

নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, গণপরিবহন সবার জন্য হলেও বাস্তবে নারীদের প্রতিদিন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাসের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে শরীরে হাত দেওয়া, ইচ্ছাকৃত স্পর্শ ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তিনি বলেন, অনেক নারী এসব অভিজ্ঞতার কথা পরিবারেও বলতে পারেন না, যা তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ গণপরিবহন অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি বাসে অভিযোগ নম্বর, আচরণবিধি ও নারীদের হয়রানির শাস্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবি জানান তিনি।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে দক্ষ নারী বাসচালকের অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারী যাত্রীদের চলাচল, সমস্যা ও যাত্রীচাপ বিষয়ে সমন্বিত তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতরে নয়; বাসস্টপে যাওয়া, বাসে ওঠা-নামা এবং বাসা পর্যন্ত ফেরার পুরো পথেই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। তিনি বাসে সিসিটিভি, কার্যকর সংরক্ষিত আসন, আলাদা ওঠা-নামার দরজা এবং নিরাপদ ফুটপাত ও বাসস্টপ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

মো. সাইফুল আলম বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সাময়িক সমাধান হতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধান হলো সবার জন্য নিরাপদ ও মানবিক গণপরিবহন নিশ্চিত করা। চালক-হেলপারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী কাউন্টারকর্মীরাও কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক আচরণ ও প্রয়োজনীয় টয়লেট সুবিধার অভাবের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা ও আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি।