ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 10

মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ইস্যুতে দেশব্যাপী হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রাণঘাতী সমস্যার প্রতিরোধ না করে কেবল নারীর দোষ খুঁজতে ব্যস্ত।

আমরা নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ঘটনায় যত রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতার ঘটনার মধ্যে মাত্র ৩% ঘটনার বিচার হচ্ছে, বাকি ৯৭% ঘটনা বিচারের আওতায় আসছে না। এভাবে অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে স্বীকার না করলে অন্যায় প্রশ্রয় পাবে।

মঙ্গলবার ( ১৯ মে) বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতা ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর; লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা; আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা দাশ পুরকায়স্থ; কলাবাগান কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সৈয়দা রত্না। প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি।
সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগরের সদস্য ও খিলগাঁও তিলপাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদা ইয়াসমিন কণা।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, মব সন্ত্রাস, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি আচরণকে অমানবিক করে তুলেছে। তিনি এসময় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের উপর জোর দাবি জানান।

মোমেনা শাহনূর বলেন, শত শত নির্যাতন, সহিংসতার কোন বিচার নেই, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি কেন? একটা ছেলে শিশুও মাদ্রাসায় নিরাপদ না, কন্যা শিশুরাও কোথাও নিরাপদ না। আমাদের শিশুদের, নারীদের সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা নীরব থাকলে কখনও এই বিচারহীনতা শেষ হবেনা। এই সমাজ আমরা কল্পনা করিনা যেখানে নারীর স্বাধীনতা নেই, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নেই। তিনি এসময় সকলকে এই নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধের আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষষ্ঠা করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখুন।

রেখা সাহা বলেন, আমাদের জোর দাবি নারী ও কণ্যা শিশুদের নিরাপত্তা । এই বছরে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসে ৫৫৬ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন সমগ্র দেশেই নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা ভয়াবহভাবে বৃদ্দি পাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশু ও তরুণীরা বর্বর নৃশংস যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। আমরা ভয়ে কেঁপে উঠছি যখন দেখি ছয় বছরের একটি শিশু ষাট বছরের বৃদ্ধ দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। একটা অপরাধপ্রবণ রাষ্ট্রে বাস করছি আমরা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মাত্রার ভয়বহতা বিবেচনায় আজকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৭ টি জেলা শাখায় একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হচ্ছে।

রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, দেশে নারী, কন্যাশিশু ও ছেলেশিশুর উপর যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আজকে আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া শিশুটির কোন নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি সহিংসতার ঘটনায় আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের প্রতি জোর দাবি জানান এবং নাগরিকদের কে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সময়ের সাথে সাথে সহিংসতার ধরণ পবির্তন হচ্ছে তাইঘটনার প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ধরণের পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য মিডিয়াতে প্রচারের বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন নারীর প্রতি অপপ্রচার মিডিয়াতে বন্ধ হলে অপপ্রচারকারীদের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। গণপরিবহনে ও জনপরিসরে সহিংসতার পাশাপাশি সাইবার সহিংসতা ঘটছে। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে থাকা সাইবার আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। নারী ও কন্যার প্রতি অনাচার বন্ধ সহ শিশুদের সার্বিক বিকাশে বক্তারা এসময় রাষ্ট্রকে উদ্যোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, সহিংসতার বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে এটির কোন ক্ষতিপুরণ হবে না। সহিংসতার ঘটনায় কেবল নারীকেই দোষারোপ করার সংস্কৃতির মাধ্যমে নারীকে দমন করার প্রয়াস অব্যাহত থাকলে জাতীয় জীবনে প্রকৃত অগ্রগতি আসবে না।

বক্তব্য শেষে ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি প্রস্তাব পাঠ করেন। প্রস্তাবে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে শূন্য সহিংসতার নীতি গ্রহণ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনকারীদের বিচারের আওতায় আনাসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষকের সাথে ধর্ষণের শিকার নারী ও কন্যার বিবাহ ও সালিশী মিমাংসা বন্ধ করতে হবে । সাইবার সহিংসতার শিকার নারী ও কন্যার সকল পর্যায়ে নিরাপত্তা , নিরাপদ আশ্রয়, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। যৌন নিপীড়ক ও ধর্ষককে পারিবারিক , সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় এবং কর্মএলাকায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের দিকনির্দেশনামূলক রায়ের আলোকে যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ , দলবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন , যৌতুক , বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে, এমন সংস্কৃতি ও নারী ও কন্যা নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে, এমন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। গণপরিসরে ও গণপরিবহনে নারী ও কন্যার নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার ধারণার বিষয় যুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ইস্যুতে দেশব্যাপী হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রাণঘাতী সমস্যার প্রতিরোধ না করে কেবল নারীর দোষ খুঁজতে ব্যস্ত।

আমরা নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ঘটনায় যত রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতার ঘটনার মধ্যে মাত্র ৩% ঘটনার বিচার হচ্ছে, বাকি ৯৭% ঘটনা বিচারের আওতায় আসছে না। এভাবে অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে স্বীকার না করলে অন্যায় প্রশ্রয় পাবে।

মঙ্গলবার ( ১৯ মে) বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতা ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর; লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা; আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা দাশ পুরকায়স্থ; কলাবাগান কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সৈয়দা রত্না। প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি।
সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগরের সদস্য ও খিলগাঁও তিলপাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদা ইয়াসমিন কণা।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, মব সন্ত্রাস, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি আচরণকে অমানবিক করে তুলেছে। তিনি এসময় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের উপর জোর দাবি জানান।

মোমেনা শাহনূর বলেন, শত শত নির্যাতন, সহিংসতার কোন বিচার নেই, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি কেন? একটা ছেলে শিশুও মাদ্রাসায় নিরাপদ না, কন্যা শিশুরাও কোথাও নিরাপদ না। আমাদের শিশুদের, নারীদের সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা নীরব থাকলে কখনও এই বিচারহীনতা শেষ হবেনা। এই সমাজ আমরা কল্পনা করিনা যেখানে নারীর স্বাধীনতা নেই, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নেই। তিনি এসময় সকলকে এই নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধের আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষষ্ঠা করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখুন।

রেখা সাহা বলেন, আমাদের জোর দাবি নারী ও কণ্যা শিশুদের নিরাপত্তা । এই বছরে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসে ৫৫৬ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন সমগ্র দেশেই নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা ভয়াবহভাবে বৃদ্দি পাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশু ও তরুণীরা বর্বর নৃশংস যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। আমরা ভয়ে কেঁপে উঠছি যখন দেখি ছয় বছরের একটি শিশু ষাট বছরের বৃদ্ধ দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। একটা অপরাধপ্রবণ রাষ্ট্রে বাস করছি আমরা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মাত্রার ভয়বহতা বিবেচনায় আজকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৭ টি জেলা শাখায় একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হচ্ছে।

রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, দেশে নারী, কন্যাশিশু ও ছেলেশিশুর উপর যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আজকে আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া শিশুটির কোন নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি সহিংসতার ঘটনায় আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের প্রতি জোর দাবি জানান এবং নাগরিকদের কে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সময়ের সাথে সাথে সহিংসতার ধরণ পবির্তন হচ্ছে তাইঘটনার প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ধরণের পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য মিডিয়াতে প্রচারের বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন নারীর প্রতি অপপ্রচার মিডিয়াতে বন্ধ হলে অপপ্রচারকারীদের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। গণপরিবহনে ও জনপরিসরে সহিংসতার পাশাপাশি সাইবার সহিংসতা ঘটছে। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে থাকা সাইবার আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। নারী ও কন্যার প্রতি অনাচার বন্ধ সহ শিশুদের সার্বিক বিকাশে বক্তারা এসময় রাষ্ট্রকে উদ্যোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, সহিংসতার বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে এটির কোন ক্ষতিপুরণ হবে না। সহিংসতার ঘটনায় কেবল নারীকেই দোষারোপ করার সংস্কৃতির মাধ্যমে নারীকে দমন করার প্রয়াস অব্যাহত থাকলে জাতীয় জীবনে প্রকৃত অগ্রগতি আসবে না।

বক্তব্য শেষে ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি প্রস্তাব পাঠ করেন। প্রস্তাবে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে শূন্য সহিংসতার নীতি গ্রহণ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনকারীদের বিচারের আওতায় আনাসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষকের সাথে ধর্ষণের শিকার নারী ও কন্যার বিবাহ ও সালিশী মিমাংসা বন্ধ করতে হবে । সাইবার সহিংসতার শিকার নারী ও কন্যার সকল পর্যায়ে নিরাপত্তা , নিরাপদ আশ্রয়, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। যৌন নিপীড়ক ও ধর্ষককে পারিবারিক , সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় এবং কর্মএলাকায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের দিকনির্দেশনামূলক রায়ের আলোকে যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ , দলবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন , যৌতুক , বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। নারী ও কন্যা নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে, এমন সংস্কৃতি ও নারী ও কন্যা নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে, এমন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। গণপরিসরে ও গণপরিবহনে নারী ও কন্যার নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার ধারণার বিষয় যুক্ত করার দাবি জানানো হয়।