ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 51

বিভিন্ন প্রজন্মের নারীদের নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করার প্রতি গুরুত্ব দেন বক্তারা । সেসঙ্গে অর্জিত অধিকারগুলোর বাস্তব প্রয়োগ করা সহ নির্মাণে নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সোমবার ( ১৮ মে ) বিকাল সাড়ে ৩ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘‘নারী আন্দোলন অগ্রসরমানতার অন্বেষায় সংলাপ’’ শীর্ষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন। মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংগঠন উপপরিষদ সদস্য আফরা আনতারা এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত জাইমা। কবিতা আবৃত্তি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপপরিষদ সদস্য নুসাইবা আহমেদ।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন ভয়েজ এন্ড ভিউজ এর জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী; আইনজীবী তাসনিয়া তাহসিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামির বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সদস্য ও স্থপতি শায়কা শান্তা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা দাশ পুর:কায়স্থ, মহিলা পরিষদের সদস্য সুপা সাদিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামির, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব সরদার; মহিলা পরিষদের সদস্য নুসাইবা আহমেদ, গণমাধ্যমকর্মী শামীমা আখতার।
একজন মেয়ে তখনই সত্যিকার স্বাধীন যখন সে নিজের স্বপ্ন নিজে বেছে নিতে পারে; ভয় নয়, সাহসের সাথে এবং পুরুষতান্ত্রিকতা একটি সামাজিক কাঠামো এবং সামাজিক জীবনের উপর প্রভাব বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেয়েদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নিজেদের তৈরি করতে হবে। নারীবাদকে ট্যাগিং হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। নারীর অধিকার আদায়ে নারীকে নিজ নিজ পেশাগত অবস্থানে ও পরিবারে সচেতন থাকতে হবে, নিজ অবস্থানে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হবে। নারীদের নিজ লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিনিয়িত আসা বাধা মোকাবেলা করে ইতিবাচক ভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সকল নারীকে ব্যক্তি হিসেবে নয় ঐক্যবদ্ধ থেকে শক্তিশালী হতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান পরিবার থেকে শেখাতে হবে। কর্মজীবি নারীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরো বলেন সমাজে নারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিদ্বেষমূলক ধ্যানধারণা দূর করতে ও পুরুষতান্ত্রিকতা রোধে শিশুদের ছোটবেলা থেকে পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক কাঠামো অনুসারে নারীর জন্য অনুগ্রহ বা অনুমোদন প্রদান করা নয় সমান সুযোগ থাকতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকতা নিয়ে যত পর্যালোচনা হবে তত আমরা এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যতদিন পৃথিবী থাকবে, মানবসভ্যতা থাকবে ততদিন অধিকারের আবেদন থাকবে। নারী পুরুষ উভয়ে যেন শুনতে পারে, অনুসরণ করবে-এমন জায়গায় আমরা পৌঁছতে চাই। নারী আন্দোলনের লড়াই একমুখী নয়। আমাদের উপলব্ধি হলো কতটুকু অধিকারকে আমরা বাস্তবায়িত করবো। পারিবারিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে নূতন নারীবান্ধব কাঠামো গড়তে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে নারীদের অধিকার বাস্তবায়িত হতে হবে- এজন্য সকলের চিন্তার নৈকট্য তৈরি করতে হবে। নূতনদের সাথে তাদের অগ্রজদের চিন্তার পার্থক্য কমিয়ে নিয়ে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি এসময়।

স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলন হলো সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন। সমাজের গতি-প্রকৃতি পরির্তনের সাথে সাথে নারী আন্দোলনের ধারা পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনের পথে আছে নানা সম্ভাবনা ও সংকট। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান হলেও কাঠামোগত অবস্থানে নানা চ্যালেঞ্জ আছে, প্রতিবন্ধকতা আছে। এইসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীরা অগ্রসর হচ্ছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিভিন্ন প্রজন্মের নারীদের নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করার প্রতি গুরুত্ব দেন বক্তারা । সেসঙ্গে অর্জিত অধিকারগুলোর বাস্তব প্রয়োগ করা সহ নির্মাণে নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সোমবার ( ১৮ মে ) বিকাল সাড়ে ৩ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘‘নারী আন্দোলন অগ্রসরমানতার অন্বেষায় সংলাপ’’ শীর্ষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন। মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংগঠন উপপরিষদ সদস্য আফরা আনতারা এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত জাইমা। কবিতা আবৃত্তি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপপরিষদ সদস্য নুসাইবা আহমেদ।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন ভয়েজ এন্ড ভিউজ এর জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী; আইনজীবী তাসনিয়া তাহসিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামির বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সদস্য ও স্থপতি শায়কা শান্তা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা দাশ পুর:কায়স্থ, মহিলা পরিষদের সদস্য সুপা সাদিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামির, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব সরদার; মহিলা পরিষদের সদস্য নুসাইবা আহমেদ, গণমাধ্যমকর্মী শামীমা আখতার।
একজন মেয়ে তখনই সত্যিকার স্বাধীন যখন সে নিজের স্বপ্ন নিজে বেছে নিতে পারে; ভয় নয়, সাহসের সাথে এবং পুরুষতান্ত্রিকতা একটি সামাজিক কাঠামো এবং সামাজিক জীবনের উপর প্রভাব বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেয়েদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নিজেদের তৈরি করতে হবে। নারীবাদকে ট্যাগিং হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। নারীর অধিকার আদায়ে নারীকে নিজ নিজ পেশাগত অবস্থানে ও পরিবারে সচেতন থাকতে হবে, নিজ অবস্থানে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হবে। নারীদের নিজ লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিনিয়িত আসা বাধা মোকাবেলা করে ইতিবাচক ভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সকল নারীকে ব্যক্তি হিসেবে নয় ঐক্যবদ্ধ থেকে শক্তিশালী হতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান পরিবার থেকে শেখাতে হবে। কর্মজীবি নারীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরো বলেন সমাজে নারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিদ্বেষমূলক ধ্যানধারণা দূর করতে ও পুরুষতান্ত্রিকতা রোধে শিশুদের ছোটবেলা থেকে পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক কাঠামো অনুসারে নারীর জন্য অনুগ্রহ বা অনুমোদন প্রদান করা নয় সমান সুযোগ থাকতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকতা নিয়ে যত পর্যালোচনা হবে তত আমরা এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যতদিন পৃথিবী থাকবে, মানবসভ্যতা থাকবে ততদিন অধিকারের আবেদন থাকবে। নারী পুরুষ উভয়ে যেন শুনতে পারে, অনুসরণ করবে-এমন জায়গায় আমরা পৌঁছতে চাই। নারী আন্দোলনের লড়াই একমুখী নয়। আমাদের উপলব্ধি হলো কতটুকু অধিকারকে আমরা বাস্তবায়িত করবো। পারিবারিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে নূতন নারীবান্ধব কাঠামো গড়তে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে নারীদের অধিকার বাস্তবায়িত হতে হবে- এজন্য সকলের চিন্তার নৈকট্য তৈরি করতে হবে। নূতনদের সাথে তাদের অগ্রজদের চিন্তার পার্থক্য কমিয়ে নিয়ে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি এসময়।

স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলন হলো সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন। সমাজের গতি-প্রকৃতি পরির্তনের সাথে সাথে নারী আন্দোলনের ধারা পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনের পথে আছে নানা সম্ভাবনা ও সংকট। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান হলেও কাঠামোগত অবস্থানে নানা চ্যালেঞ্জ আছে, প্রতিবন্ধকতা আছে। এইসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীরা অগ্রসর হচ্ছে।