ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প না ভেঙ্গে চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 57

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পটি না ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন পরিকল্পনাবিদরা। পাশাপাশি, বিআরটি চালুর মাধ্যমে যানজট, যাতায়াত সময়, জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি গাজীপুর ও আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্ব দেন।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর উদ্যোগে সকাল ১১ টায় রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে “গণপরিবহন নির্ভর নগরঃ ঢাকা – গাজীপুর বিআরটি’র ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদরা এ মন্তব্য করেন।

বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান এর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পিএইচডি। বক্তব্য দেন বিআইপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বিআইপি’র সদস্য সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ শামসুল হক এবং বিআইপি সদস্য পরিকল্পনাবিদ মোঃ মুনতাসির মামুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআইপি’র বোর্ড সদস্য (একাডেমিক এফেয়ার্স) পরিকল্পনাবিদ শুভ কান্তি পোদ্দার।

পরিকল্পনাবিদরা বলেন, ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং সমন্বিত নগর উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তারা উল্লেখ করেন, একইসঙ্গে বিআরটি কোম্পানিকে শক্তিশালী করে পেশাদার পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের দক্ষ পেশাজীবীদের সমন্বয়ের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নগর পরিকল্পনা, নগর ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিকল্পনাবিদদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই এ বিষয়ে বিআইপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিকল্পনাবিদদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. মুঃ মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, বিআরটি (Bus Rapid Transit) শুধু একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা নয়; নগর ও পরিবহন পরিকল্পনাবিদদের কাছে এটি “Better Regeneration of Towns and Territories”-এর প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বিআরটির সফলতা কেবল যাতায়াত সহজ করার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায় না, বরং এটি নগর পুনর্গঠন, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখছে, তাঁর ওপরই প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রায় ২০৫টি শহরে বিভিন্ন ধরনের এমআরটি (মেট্রোরেল, টিউব, স্কাইট্রেন ইত্যাদি) চালু থাকলেও ২০০০ সালের পর বিআরটি সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৮৩ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ, বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচালনার সক্ষমতা, সহজ সম্প্রসারণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় শিল্প ও অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে শুরু হওয়া ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়েই একটি বেসিক বিআরটি সার্ভিস চালু করা সম্ভব। এছাড়াও উন্নতমানের বাস ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত দুই থেকে তিন শত কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে এবং আধুনিক ইলেকট্রিক বাস চালুর জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। অন্যদিকে প্রকল্প বাতিল করে বিআরটি করিডোরকে সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করতে গেলেও বিদ্যমান স্টেশন, র‌্যাম্প ও এস্কেলেটর অপসারণ এবং ঠিকাদারদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০-১২০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটির সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, এই করিডোর চালু হলে যাত্রাসময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে, করিডোর ও আশপাশের সড়কে ছোট যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অপেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের প্রভাবের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। পাশাপাশি, বিআরটি কোম্পানিকে একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। তাই বিআরটি কোম্পানিকে শক্তিশালী করার জন্য নগর ও পরিবহন পরিকল্পনাবিদসহ পেশাদার জনবল নিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদে বিআইপি, আইইবি, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও পেশাদার পরিকল্পনাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকার স্ট্রেটিজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান নয়, সাম্প্রতিক গাজীপুর পরিবহন পরিকল্পনাতেও বিআরটি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর দেশের বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন এবং দ্রুততম বর্ধনশীল নগর অঞ্চলের একটি। এছাড়াও ঢাকা-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও জনবহুল নগর অঞ্চল। তাই ঢাকাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটিকে তিনি ভবিষ্যৎ টেকসই নগর উন্নয়নের “লাইফলাইন” হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিআইপি’র সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দেশে পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে পরিকল্পিত বিআরটি প্রকল্পের দীর্ঘ সময় পরও এর বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়, যদিও প্রকল্পটির অধিকাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। তিনি জানান, বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্প বন্ধের চিন্তা থেকে সরে এসে গণপরিবহনকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কার্যকারিতা সমীক্ষার ত্রুটিগুলো প্রকাশ ও সংশোধনের দাবি জানান এবং ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে বিআরটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যারা ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতাঁর সৃষ্টি করেছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাদেরকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এ ধরনের পরিস্থিতিকে তিনি স্বার্থের সংঘাত এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, টেকসই ও উন্নয়নবান্ধব শহর গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বিআরটির মতো গণপরিবহনভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ শামসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, গাজীপুর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী, যেখানে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের বসবাস। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ বছর ধরে গাজীপুর–উত্তরা–বিমানবন্দর করিডোরের জনগণ একটি উন্নত ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার আশায় দীর্ঘ জনদুর্ভোগ সহ্য করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিআরটি প্রকল্প অপসারণের সম্ভাবনার খবর গাজীপুরবাসীর জন্য গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, অল্প কিছু কাজ শেষ করলেই জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারত এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটত। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় প্রকল্পটি অপসারণের অপচেষ্টা চলছে, যা গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা ও স্বার্থের পরিপন্থী।

বিআইপি সদস্য পরিকল্পনাবিদ মোঃ মুনতাসির মামুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইউআরএসটিপি প্রকল্প চলাকালীন ২০২৩ সালে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ট্রিপ সৃষ্টি হলেও মেট্রোরেলের মাধ্যমে মোট যাত্রীর মাত্র ১ শতাংশ পরিবহন সম্ভব হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ ব্যয়ে কার্যকর বিআরটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকায় বাস ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৮ শতাংশের বেশি, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ শতাংশে। মানসম্মত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের অভাবে ঢাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা ক্রমেই সংকটের মুখে পড়ছে। এনরিক পেনালোসার উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, “যদি আমরা শিশুদের জন্য একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলতে পারি, তবে সেই শহর সবার জন্যই নিরাপদ হবে।” তবে দুঃখজনকভাবে আমরা ক্রমেই শিশুদের জন্য অনিরাপদ একটি ঢাকা গড়ে তুলছি।

বিআইপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক দশকে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, ফলে নগর পরিবহনে আধুনিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সরকারকে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিআরটি ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিআইপি কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলা হয় :
* আগামী ৬- ১২ মাসের মধ্যে ডেডিকেটেড লেনসহ ন্যূনতম বিআরটি চালু করা।
* আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে BRT বোর্ড পুনর্গঠন করা ।
* ঢাকা – গাজীপুর বিআরটি করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর জন্য এখনই ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নেয়া।
* গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান এর প্রস্তাব আনুযায়ী এ বিআরটি-কে ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণ করার প্রকল্প নেয়া।
* ঢাকা – গাজীপুর – নারায়ণগঞ্জ নগর অঞ্চলের জন্য বিশেষ সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা করে একাধিক BRT প্রকল্প গ্রহণ করা।
৬। বিআইপি কর্তৃক প্রণীত ন্যাশনাল স্পেশিয়াল প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্কের আলোকে দেশের বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিআরটি চালু করা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প না ভেঙ্গে চালুর দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পটি না ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন পরিকল্পনাবিদরা। পাশাপাশি, বিআরটি চালুর মাধ্যমে যানজট, যাতায়াত সময়, জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি গাজীপুর ও আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্ব দেন।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর উদ্যোগে সকাল ১১ টায় রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে “গণপরিবহন নির্ভর নগরঃ ঢাকা – গাজীপুর বিআরটি’র ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদরা এ মন্তব্য করেন।

বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান এর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পিএইচডি। বক্তব্য দেন বিআইপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বিআইপি’র সদস্য সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ শামসুল হক এবং বিআইপি সদস্য পরিকল্পনাবিদ মোঃ মুনতাসির মামুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআইপি’র বোর্ড সদস্য (একাডেমিক এফেয়ার্স) পরিকল্পনাবিদ শুভ কান্তি পোদ্দার।

পরিকল্পনাবিদরা বলেন, ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং সমন্বিত নগর উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তারা উল্লেখ করেন, একইসঙ্গে বিআরটি কোম্পানিকে শক্তিশালী করে পেশাদার পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের দক্ষ পেশাজীবীদের সমন্বয়ের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নগর পরিকল্পনা, নগর ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিকল্পনাবিদদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই এ বিষয়ে বিআইপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিকল্পনাবিদদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. মুঃ মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, বিআরটি (Bus Rapid Transit) শুধু একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা নয়; নগর ও পরিবহন পরিকল্পনাবিদদের কাছে এটি “Better Regeneration of Towns and Territories”-এর প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বিআরটির সফলতা কেবল যাতায়াত সহজ করার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায় না, বরং এটি নগর পুনর্গঠন, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখছে, তাঁর ওপরই প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রায় ২০৫টি শহরে বিভিন্ন ধরনের এমআরটি (মেট্রোরেল, টিউব, স্কাইট্রেন ইত্যাদি) চালু থাকলেও ২০০০ সালের পর বিআরটি সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৮৩ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ, বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচালনার সক্ষমতা, সহজ সম্প্রসারণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় শিল্প ও অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে শুরু হওয়া ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়েই একটি বেসিক বিআরটি সার্ভিস চালু করা সম্ভব। এছাড়াও উন্নতমানের বাস ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত দুই থেকে তিন শত কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে এবং আধুনিক ইলেকট্রিক বাস চালুর জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। অন্যদিকে প্রকল্প বাতিল করে বিআরটি করিডোরকে সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করতে গেলেও বিদ্যমান স্টেশন, র‌্যাম্প ও এস্কেলেটর অপসারণ এবং ঠিকাদারদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০-১২০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটির সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, এই করিডোর চালু হলে যাত্রাসময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে, করিডোর ও আশপাশের সড়কে ছোট যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অপেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের প্রভাবের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। পাশাপাশি, বিআরটি কোম্পানিকে একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। তাই বিআরটি কোম্পানিকে শক্তিশালী করার জন্য নগর ও পরিবহন পরিকল্পনাবিদসহ পেশাদার জনবল নিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদে বিআইপি, আইইবি, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও পেশাদার পরিকল্পনাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকার স্ট্রেটিজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান নয়, সাম্প্রতিক গাজীপুর পরিবহন পরিকল্পনাতেও বিআরটি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর দেশের বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন এবং দ্রুততম বর্ধনশীল নগর অঞ্চলের একটি। এছাড়াও ঢাকা-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও জনবহুল নগর অঞ্চল। তাই ঢাকাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটিকে তিনি ভবিষ্যৎ টেকসই নগর উন্নয়নের “লাইফলাইন” হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিআইপি’র সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দেশে পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে পরিকল্পিত বিআরটি প্রকল্পের দীর্ঘ সময় পরও এর বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়, যদিও প্রকল্পটির অধিকাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। তিনি জানান, বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্প বন্ধের চিন্তা থেকে সরে এসে গণপরিবহনকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কার্যকারিতা সমীক্ষার ত্রুটিগুলো প্রকাশ ও সংশোধনের দাবি জানান এবং ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে বিআরটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যারা ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতাঁর সৃষ্টি করেছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাদেরকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এ ধরনের পরিস্থিতিকে তিনি স্বার্থের সংঘাত এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, টেকসই ও উন্নয়নবান্ধব শহর গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বিআরটির মতো গণপরিবহনভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ শামসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, গাজীপুর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী, যেখানে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের বসবাস। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ বছর ধরে গাজীপুর–উত্তরা–বিমানবন্দর করিডোরের জনগণ একটি উন্নত ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার আশায় দীর্ঘ জনদুর্ভোগ সহ্য করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিআরটি প্রকল্প অপসারণের সম্ভাবনার খবর গাজীপুরবাসীর জন্য গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, অল্প কিছু কাজ শেষ করলেই জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারত এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটত। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় প্রকল্পটি অপসারণের অপচেষ্টা চলছে, যা গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা ও স্বার্থের পরিপন্থী।

বিআইপি সদস্য পরিকল্পনাবিদ মোঃ মুনতাসির মামুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইউআরএসটিপি প্রকল্প চলাকালীন ২০২৩ সালে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ট্রিপ সৃষ্টি হলেও মেট্রোরেলের মাধ্যমে মোট যাত্রীর মাত্র ১ শতাংশ পরিবহন সম্ভব হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ ব্যয়ে কার্যকর বিআরটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকায় বাস ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৮ শতাংশের বেশি, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ শতাংশে। মানসম্মত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের অভাবে ঢাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা ক্রমেই সংকটের মুখে পড়ছে। এনরিক পেনালোসার উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, “যদি আমরা শিশুদের জন্য একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলতে পারি, তবে সেই শহর সবার জন্যই নিরাপদ হবে।” তবে দুঃখজনকভাবে আমরা ক্রমেই শিশুদের জন্য অনিরাপদ একটি ঢাকা গড়ে তুলছি।

বিআইপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক দশকে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, ফলে নগর পরিবহনে আধুনিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সরকারকে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিআরটি ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিআইপি কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলা হয় :
* আগামী ৬- ১২ মাসের মধ্যে ডেডিকেটেড লেনসহ ন্যূনতম বিআরটি চালু করা।
* আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে BRT বোর্ড পুনর্গঠন করা ।
* ঢাকা – গাজীপুর বিআরটি করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর জন্য এখনই ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নেয়া।
* গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান এর প্রস্তাব আনুযায়ী এ বিআরটি-কে ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণ করার প্রকল্প নেয়া।
* ঢাকা – গাজীপুর – নারায়ণগঞ্জ নগর অঞ্চলের জন্য বিশেষ সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা করে একাধিক BRT প্রকল্প গ্রহণ করা।
৬। বিআইপি কর্তৃক প্রণীত ন্যাশনাল স্পেশিয়াল প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্কের আলোকে দেশের বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিআরটি চালু করা।