ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 56

জাতীয় বাজেট প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার (১৮ মে) সকালে এএলআরডি আয়োজনে রাজধানীর দি ডেইলি স্টার কার্যালয়ের আজিমুর রহমান হলে জাতীয় বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য বরাদ্দ, অংশিদারিত্ব এবং বাস্তবায়ন ও মনিটরিং বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।

সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনির সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও সোহরাব হাসান। এছাড়া তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহীর আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরার কৃষ্ণপদ মুন্ডা, চট্টগ্রামের এসএম নাজের হোসেন, বরিশালের শামসুল ইসলাম দিপু এবং হাওরের সেলেহীন চৌধুরী শুভ প্রমুখ।

সি আর ডি-র গবেষণা টিমের প্রধান গাজী সারওয়র্দী জাতীয় বাজেট বিষয় সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

রওশন জাহান মনি’র মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে, যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতই, জাতীয় বাজেটের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তবে দারিদ্র বিমোচন, বৈষম্য হ্রাস এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে-জনগোষ্ঠী-এলাকা- নৃতাত্ত্বিক পরিচয়- লৈঙ্গিক পরিচয়-শ্রেণি কাঠামোর ভিত্তিতে বাজেটের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা- সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে এই জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবেই নিষ্পেষিত, বঞ্চিত, ফলত দুর্বল। তাই তাদের পক্ষে সচেতন, সংবেদনশীল এবং উচ্চ

কণ্ঠ হওয়া নাগরিক সমাজের নৈতিক এবং উন্নয়ন-দায়িত্ব। তাই প্রান্তজনের বঞ্চনা-চাহিদা-অধিকারের নিরিখে বাজেট পর্যালোচনা করছে ।
তিনি আরো বলেন, নাগরিক পরিসরে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হাজির করেছে এবং নীতি-নির্ধারকদের জন্য প্রামাণ্য সুপারিশ প্রদান করেছে। এরিই ধারবাহিকতায় এবছরেও গত বছরের জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ ও ব্যয়ের উপরে পর্যালোচনা এবং তার উপর ভিত্তি করে আসন্ন ২০২৬-২০২৭ সালের অর্থ বছরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ প্রণীত হয়েছে ।

সমীক্ষাপত্র উপস্থাপনকালে গবেষক গাজী সারওয়র্দী বলেন, পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী, যুব জনগোষ্ঠী, নগর দরিদ্র ও ভূমি-জলা-কৃষি সংস্কার ৬ ভাগে বিভক্ত করে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট কোন উপখাতে কত হওয়া প্রয়োজন তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সমীক্ষায় পারিবারিক কৃষির ক্ষেত্রে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ পারিবারিক কৃষকের জন্য ১ লক্ষ নয় হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বরাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক পারিবারিক কৃষকদের সবাই যেন সরকার ঘোষিত “কৃষক কার্ড” পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন। সেসঙ্গে পারিবারিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়কৃত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মূল্য-সমর্থন সহায়তা দেওয়ার জন্য বাজেটে বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি শস্য ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো এবং সারাদেশব্যাপী গুদাম ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া, খাসজমি পাওয়া পারিবারিক কৃষি-খানাগুলোর জমি ধরে রাখা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষিভিত্তিক জীবিকা উন্নয়নে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের জোর দেন।

৬ কোটির ওপর গ্রামীণ নারীর জন্য কমপক্ষে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকার বরাদ্দ দাবি জানিয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক গ্রামীণ নারীদের সকলেই যেন “ফ্যামিলি কার্ড” পায় তার নিশ্চয়তা, গ্রামীণ নারী কৃষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেটে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি বীমার জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত , গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং সহায়তার জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, বিধবা, পরিতাক্ত ও নারীপ্রধান খানার সদস্যদের আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গঠনে বাজেট বরাদ্দ , নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা কেন্দ্র ও মনোসামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার প্রতি দাবি জানান।

৫২ লক্ষের ওপর আদিবাসী মানুষের জন্য কমপক্ষে ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। সেই সাথে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট, হালনাগাদ ও গোষ্ঠীভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রস্তুতের জন্য বিশেষ আদিবাসী জনশুমারি পরিচালনার জন্য বাজেট বরাদ্দ, সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও তার কার্যকারিতা নিশ্চিতে পাঁচ বছর মেয়াদি বাজেট , পার্বত্য এলাকার ইচ্ছুক সেটেলার বাঙালিদের সমতলে পুনর্বাসন উদ্যোগের জন্য ন্যুনতম ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান।

দেশের এক-পঞ্চমাংশ যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে ৬১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান। তাছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও ই-কমার্স, মানসিক স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, ইংরেজিসহ অন্য ভাষা শিক্ষা এবং সুরক্ষিত অভিবাসন- এই খাতগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করে যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দ বিন্যাস, উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে আগ্রহী যুবদের সহযোগিতার লক্ষে (উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ঋণপ্রাপ্তি, বাজার সংযোগ, ব্যবসায়ীক রেজিস্ট্রেশান সহায়তা ইত্যাদি) বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়ার প্রতি জোর দেন।

দেশের এক কোটি ৩৩ লক্ষের বেশি নগর দরিদ্রের জন্য কমপক্ষে ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। নগরের অকৃষি খাসজমি ব্যবহার করে নগর দরিদ্রদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণ ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ, নগর দরিদ্রদের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ তহবিল/প্রকল্প চালু করতে বাজেট, নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সৃজন ও বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদের দাবি জানিয়েছেন।

দেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভূমি সংস্কার-সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছেন। সেই সাখে একটি স্থায়ী জাতীয় ভূমি ও কৃষি সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষা কমিশন গঠনের জন্য বাজেট বরাদ্দ, ভূমি সংস্কার, জলাশয় রক্ষা ও কৃষি ন্যায্যতার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং এবং অডিট সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। বে, সেল পরিচালনার জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ এবং সরকারি খাসজমি ও জলাশয় সিএস (CS) রেকর্ড অনুযায়ী সঠিকভাবে উদ্ধার ও সংরক্ষণে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। ভূমি-কৃষি-জলার সংস্কার না হলে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, রাষ্ট্রের সিংহভাগ মানুষ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কিন্তু তাদের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য হারে নেই। অন্যদিকে সবার কাছ থেকে অর্থ আয় করা হলেও সবার জন্য ব্যয় করা হয় না। সুতরাং বাজেট যতটুকু হোকনা কেন তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্টন করতে হবে।

সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণকেন্দ্রি হতে হবে। উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো প্রকল্প। যার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ কিন্তু বাস্তবিক অর্থে প্রকল্পের জন্য মানুষ। তৃণমূলের মানুষের অর্থই রাষ্ট্রের অর্থ। ফলে বাজেট বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রিকরন করা প্রয়োজন। সংসদের সদস্যরা প্রান্তিকের বা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবেন তাহলেই বাজেটের ন্যায্যতা ফিরবে। সরকার কৃষি নিয়ে অনেক কথা বলছে কিন্তু কৃষি ও কৃষি সংস্কার না করলে বাজেট বরাদ্দ ফলপ্রসু হবে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জাতীয় বাজেট প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার (১৮ মে) সকালে এএলআরডি আয়োজনে রাজধানীর দি ডেইলি স্টার কার্যালয়ের আজিমুর রহমান হলে জাতীয় বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য বরাদ্দ, অংশিদারিত্ব এবং বাস্তবায়ন ও মনিটরিং বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।

সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনির সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও সোহরাব হাসান। এছাড়া তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহীর আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরার কৃষ্ণপদ মুন্ডা, চট্টগ্রামের এসএম নাজের হোসেন, বরিশালের শামসুল ইসলাম দিপু এবং হাওরের সেলেহীন চৌধুরী শুভ প্রমুখ।

সি আর ডি-র গবেষণা টিমের প্রধান গাজী সারওয়র্দী জাতীয় বাজেট বিষয় সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

রওশন জাহান মনি’র মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে, যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতই, জাতীয় বাজেটের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তবে দারিদ্র বিমোচন, বৈষম্য হ্রাস এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে-জনগোষ্ঠী-এলাকা- নৃতাত্ত্বিক পরিচয়- লৈঙ্গিক পরিচয়-শ্রেণি কাঠামোর ভিত্তিতে বাজেটের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা- সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে এই জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবেই নিষ্পেষিত, বঞ্চিত, ফলত দুর্বল। তাই তাদের পক্ষে সচেতন, সংবেদনশীল এবং উচ্চ

কণ্ঠ হওয়া নাগরিক সমাজের নৈতিক এবং উন্নয়ন-দায়িত্ব। তাই প্রান্তজনের বঞ্চনা-চাহিদা-অধিকারের নিরিখে বাজেট পর্যালোচনা করছে ।
তিনি আরো বলেন, নাগরিক পরিসরে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হাজির করেছে এবং নীতি-নির্ধারকদের জন্য প্রামাণ্য সুপারিশ প্রদান করেছে। এরিই ধারবাহিকতায় এবছরেও গত বছরের জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ ও ব্যয়ের উপরে পর্যালোচনা এবং তার উপর ভিত্তি করে আসন্ন ২০২৬-২০২৭ সালের অর্থ বছরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ প্রণীত হয়েছে ।

সমীক্ষাপত্র উপস্থাপনকালে গবেষক গাজী সারওয়র্দী বলেন, পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী, যুব জনগোষ্ঠী, নগর দরিদ্র ও ভূমি-জলা-কৃষি সংস্কার ৬ ভাগে বিভক্ত করে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট কোন উপখাতে কত হওয়া প্রয়োজন তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সমীক্ষায় পারিবারিক কৃষির ক্ষেত্রে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ পারিবারিক কৃষকের জন্য ১ লক্ষ নয় হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বরাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক পারিবারিক কৃষকদের সবাই যেন সরকার ঘোষিত “কৃষক কার্ড” পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন। সেসঙ্গে পারিবারিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়কৃত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মূল্য-সমর্থন সহায়তা দেওয়ার জন্য বাজেটে বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি শস্য ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো এবং সারাদেশব্যাপী গুদাম ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া, খাসজমি পাওয়া পারিবারিক কৃষি-খানাগুলোর জমি ধরে রাখা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষিভিত্তিক জীবিকা উন্নয়নে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের জোর দেন।

৬ কোটির ওপর গ্রামীণ নারীর জন্য কমপক্ষে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকার বরাদ্দ দাবি জানিয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক গ্রামীণ নারীদের সকলেই যেন “ফ্যামিলি কার্ড” পায় তার নিশ্চয়তা, গ্রামীণ নারী কৃষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেটে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি বীমার জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত , গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং সহায়তার জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, বিধবা, পরিতাক্ত ও নারীপ্রধান খানার সদস্যদের আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গঠনে বাজেট বরাদ্দ , নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা কেন্দ্র ও মনোসামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার প্রতি দাবি জানান।

৫২ লক্ষের ওপর আদিবাসী মানুষের জন্য কমপক্ষে ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। সেই সাথে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট, হালনাগাদ ও গোষ্ঠীভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রস্তুতের জন্য বিশেষ আদিবাসী জনশুমারি পরিচালনার জন্য বাজেট বরাদ্দ, সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও তার কার্যকারিতা নিশ্চিতে পাঁচ বছর মেয়াদি বাজেট , পার্বত্য এলাকার ইচ্ছুক সেটেলার বাঙালিদের সমতলে পুনর্বাসন উদ্যোগের জন্য ন্যুনতম ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান।

দেশের এক-পঞ্চমাংশ যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে ৬১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান। তাছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও ই-কমার্স, মানসিক স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, ইংরেজিসহ অন্য ভাষা শিক্ষা এবং সুরক্ষিত অভিবাসন- এই খাতগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করে যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দ বিন্যাস, উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে আগ্রহী যুবদের সহযোগিতার লক্ষে (উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ঋণপ্রাপ্তি, বাজার সংযোগ, ব্যবসায়ীক রেজিস্ট্রেশান সহায়তা ইত্যাদি) বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়ার প্রতি জোর দেন।

দেশের এক কোটি ৩৩ লক্ষের বেশি নগর দরিদ্রের জন্য কমপক্ষে ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। নগরের অকৃষি খাসজমি ব্যবহার করে নগর দরিদ্রদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণ ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ, নগর দরিদ্রদের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ তহবিল/প্রকল্প চালু করতে বাজেট, নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সৃজন ও বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদের দাবি জানিয়েছেন।

দেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভূমি সংস্কার-সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছেন। সেই সাখে একটি স্থায়ী জাতীয় ভূমি ও কৃষি সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষা কমিশন গঠনের জন্য বাজেট বরাদ্দ, ভূমি সংস্কার, জলাশয় রক্ষা ও কৃষি ন্যায্যতার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং এবং অডিট সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। বে, সেল পরিচালনার জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ এবং সরকারি খাসজমি ও জলাশয় সিএস (CS) রেকর্ড অনুযায়ী সঠিকভাবে উদ্ধার ও সংরক্ষণে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। ভূমি-কৃষি-জলার সংস্কার না হলে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, রাষ্ট্রের সিংহভাগ মানুষ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কিন্তু তাদের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য হারে নেই। অন্যদিকে সবার কাছ থেকে অর্থ আয় করা হলেও সবার জন্য ব্যয় করা হয় না। সুতরাং বাজেট যতটুকু হোকনা কেন তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্টন করতে হবে।

সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণকেন্দ্রি হতে হবে। উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো প্রকল্প। যার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ কিন্তু বাস্তবিক অর্থে প্রকল্পের জন্য মানুষ। তৃণমূলের মানুষের অর্থই রাষ্ট্রের অর্থ। ফলে বাজেট বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রিকরন করা প্রয়োজন। সংসদের সদস্যরা প্রান্তিকের বা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবেন তাহলেই বাজেটের ন্যায্যতা ফিরবে। সরকার কৃষি নিয়ে অনেক কথা বলছে কিন্তু কৃষি ও কৃষি সংস্কার না করলে বাজেট বরাদ্দ ফলপ্রসু হবে না।