ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন-ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 88

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ এক সাক্ষীর জবানবন্দিতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকির অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার মেরাদিয়া এলাকায় ছাত্রদের কর্মসূচির সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একটি অংশ একযোগে গুলি চালায় বলে তিনি দেখেছেন। এই ঘটনায় একাধিক মানুষ নিহত ও আহত হন এবং আতঙ্কের মধ্যে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলে—যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে কিন্তু মারা যায়নি, তাদের ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হোক।

সাক্ষী জবানবন্দিতে অভিযোগ করেন, এই হুমকির পর তাকে হাসপাতাল থেকে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি ফিরে আবারও চাপ ও হুমকির মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত নিজ অর্থে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

তিনি ঘটনার জন্য কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন এবং বর্তমানে কাজ করার সক্ষমতা হারানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান, যেখানে একাধিক আসামির মধ্যে দুজন আটক এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন-ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ এক সাক্ষীর জবানবন্দিতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকির অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার মেরাদিয়া এলাকায় ছাত্রদের কর্মসূচির সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একটি অংশ একযোগে গুলি চালায় বলে তিনি দেখেছেন। এই ঘটনায় একাধিক মানুষ নিহত ও আহত হন এবং আতঙ্কের মধ্যে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলে—যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে কিন্তু মারা যায়নি, তাদের ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হোক।

সাক্ষী জবানবন্দিতে অভিযোগ করেন, এই হুমকির পর তাকে হাসপাতাল থেকে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি ফিরে আবারও চাপ ও হুমকির মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত নিজ অর্থে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

তিনি ঘটনার জন্য কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন এবং বর্তমানে কাজ করার সক্ষমতা হারানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান, যেখানে একাধিক আসামির মধ্যে দুজন আটক এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।