ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে পোনাবাহি গাড়ি আটকে ববি ছাত্রদলের লাখটাকা চাঁদাবাজি

ববি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 13

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে বেড়েছে ছাত্রদলের একাংশের দৌরাত্ম্য। গভীর রাতে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও মাছের পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতারা এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় দিনদিন মহাসড়কটিতে এ ঘটনা বেড়েই চলছে। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলে সভাপতি মো. মেশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহামানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মহাসড়কে এসব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। চাঁদার টাকার ভাগ তাদের পকেটেও যায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯মে) ভোর ৫ টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেনুবাহী একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে নিয়ে আটক করা হয়। গাড়ি আটকে বাসের হেল্পার ও ড্রাইভারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোানার মালিককে কল দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিকাশে তিনটি নাম্বারে মোট ৯৫ হাজার টাকা এবং নগদ পাঁচহাজার টাকাসহ মোট ১লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি উদ্ধার করেন। বিকাশের লেদনেদের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

পরবর্তীতে, প্রথম গাড়িটি আটকের খবর পেয়ে চিংড়ি রেনু বহনকারি দ্বিতীয় কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন জিরোপয়েন্টে থামার সিগনাল দিলে চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে রুপাতলির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও একজন আহত হয়। পরে ঐ গাড়ির পিছু নেয় ববি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গাড়িটি রুপাতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে ববির ৭/৮ জন শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসের চালক ও হেলপারকে মারতে থাকে। এতে ড্রাইভার ও হেল্পার মারাত্মক আহত হন।এ সময় তারা মাইক্রোবাসটির গ্লাস ও অন্যান্য অংশে ভাঙচুর করে। আহত শিক্ষার্থী ববির ১০ ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী মো: আরাফাত।

আজকের এই ঘটনায় বরিশালের প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামের কক্ষে সবাইকে ডেকে বসানো হয় বিচার। হাজির করা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতাকে। উপস্থিত হন বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্তাও।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহায় পেতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছে ট্রাক চালক।

মাছের গাড়ি আটকে মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, সহ-সভাপতি মো. মিথুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. স্বজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, একাধিক নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব নেতাকর্মীদেরকে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আহত ছাত্রদলকর্মী মো. আরাফাত বলেন, ‘আমি ফজরের নামাজ পড়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম এমন সময় পিছন থেকে এসে একটি হাইসগাড়ি আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় এতে আমি পড়ে গিয়ে আহত হই এবং শেরে বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছি।

চাঁদাবাজির শিকার হওয়া চিংড়ি রেনু মালিক মো. আফতাব হোসেন বলেন, “ওরা দুইটা নাম্বার থেকে ৯৫ হাজার টাকা বিকাশে নিয়েছে আর পাচ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এমনি বিকাশ খরচ পাচশত টাকা নিয়েছে , এবং ড্রাইভারের কাছে কিছু টাকা ছিলো সেই টাকাও ওরা নিয়েছে। ওদের দাবি ছিলো পাঁচ লাখ। ওরা আমাদের বলে এটা অবৈধ মাছ , টাকা দেওয়া লাগবে। আমি বলি এটা কোনো অবৈধ মাছ না। ওরা প্রায় ১৬/১৭ জন ছিলো।”

পোনা বহনকারী দ্বিতীয় মাইক্রোবাস চালক বলেন, ‘ওরা প্রথম মাছের গাড়ি দাড় করিয়ে ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে গেছে , এবং টাকা আদায় করেছে। প্রথম গাড়ি থেকে আমাদের ফোন দিয়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যেন গাড়ি না থামায়। তখন গাড়ি না থামিয়ে টান দেয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৮/১০ টা মটর সাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে গাড়ি থামালে আমাকে ওরা মারধর করে এবং গাড়ি ভাংচুর করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে একটি মাইক্রোকার মেরে দেয়ায় সেটা নিয়ে মিমাংসার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়েছিলাম ছাত্রদলে সভাপতি, সাধারণসম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। মহাসড়কে মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। এবং বলেন আমাদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের কেউ যদি এমন চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে এবং যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলেকে মোটরসাইকেলসহ মেরে দেয় একটি হায়েস মাইক্রোবাস পরে শিক্ষার্থীরা ঐটা ধাওয়া করে। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসচালক পুলিশের কাছে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এবং যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ডাকা হয়েছিলো। বিষয়টি মিমাংসা করে মাছের গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গাড়ি আটক করে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, এমন ঘটনা ঘটতেছে না বিষয়টি আমি বলবো না, তবে এবিষয়টি যেহেতু বন্দরথানাধীন সংশ্লিষ্ট এরিয়ার পুলিশ এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মহাসড়কে পোনাবাহি গাড়ি আটকে ববি ছাত্রদলের লাখটাকা চাঁদাবাজি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে বেড়েছে ছাত্রদলের একাংশের দৌরাত্ম্য। গভীর রাতে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও মাছের পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতারা এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় দিনদিন মহাসড়কটিতে এ ঘটনা বেড়েই চলছে। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলে সভাপতি মো. মেশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহামানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মহাসড়কে এসব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। চাঁদার টাকার ভাগ তাদের পকেটেও যায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯মে) ভোর ৫ টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেনুবাহী একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে নিয়ে আটক করা হয়। গাড়ি আটকে বাসের হেল্পার ও ড্রাইভারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোানার মালিককে কল দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিকাশে তিনটি নাম্বারে মোট ৯৫ হাজার টাকা এবং নগদ পাঁচহাজার টাকাসহ মোট ১লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি উদ্ধার করেন। বিকাশের লেদনেদের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

পরবর্তীতে, প্রথম গাড়িটি আটকের খবর পেয়ে চিংড়ি রেনু বহনকারি দ্বিতীয় কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন জিরোপয়েন্টে থামার সিগনাল দিলে চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে রুপাতলির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও একজন আহত হয়। পরে ঐ গাড়ির পিছু নেয় ববি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গাড়িটি রুপাতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে ববির ৭/৮ জন শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসের চালক ও হেলপারকে মারতে থাকে। এতে ড্রাইভার ও হেল্পার মারাত্মক আহত হন।এ সময় তারা মাইক্রোবাসটির গ্লাস ও অন্যান্য অংশে ভাঙচুর করে। আহত শিক্ষার্থী ববির ১০ ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী মো: আরাফাত।

আজকের এই ঘটনায় বরিশালের প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামের কক্ষে সবাইকে ডেকে বসানো হয় বিচার। হাজির করা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতাকে। উপস্থিত হন বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্তাও।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহায় পেতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছে ট্রাক চালক।

মাছের গাড়ি আটকে মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, সহ-সভাপতি মো. মিথুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. স্বজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, একাধিক নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব নেতাকর্মীদেরকে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আহত ছাত্রদলকর্মী মো. আরাফাত বলেন, ‘আমি ফজরের নামাজ পড়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম এমন সময় পিছন থেকে এসে একটি হাইসগাড়ি আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় এতে আমি পড়ে গিয়ে আহত হই এবং শেরে বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছি।

চাঁদাবাজির শিকার হওয়া চিংড়ি রেনু মালিক মো. আফতাব হোসেন বলেন, “ওরা দুইটা নাম্বার থেকে ৯৫ হাজার টাকা বিকাশে নিয়েছে আর পাচ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এমনি বিকাশ খরচ পাচশত টাকা নিয়েছে , এবং ড্রাইভারের কাছে কিছু টাকা ছিলো সেই টাকাও ওরা নিয়েছে। ওদের দাবি ছিলো পাঁচ লাখ। ওরা আমাদের বলে এটা অবৈধ মাছ , টাকা দেওয়া লাগবে। আমি বলি এটা কোনো অবৈধ মাছ না। ওরা প্রায় ১৬/১৭ জন ছিলো।”

পোনা বহনকারী দ্বিতীয় মাইক্রোবাস চালক বলেন, ‘ওরা প্রথম মাছের গাড়ি দাড় করিয়ে ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে গেছে , এবং টাকা আদায় করেছে। প্রথম গাড়ি থেকে আমাদের ফোন দিয়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যেন গাড়ি না থামায়। তখন গাড়ি না থামিয়ে টান দেয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৮/১০ টা মটর সাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে গাড়ি থামালে আমাকে ওরা মারধর করে এবং গাড়ি ভাংচুর করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে একটি মাইক্রোকার মেরে দেয়ায় সেটা নিয়ে মিমাংসার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়েছিলাম ছাত্রদলে সভাপতি, সাধারণসম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। মহাসড়কে মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। এবং বলেন আমাদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের কেউ যদি এমন চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে এবং যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলেকে মোটরসাইকেলসহ মেরে দেয় একটি হায়েস মাইক্রোবাস পরে শিক্ষার্থীরা ঐটা ধাওয়া করে। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসচালক পুলিশের কাছে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এবং যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ডাকা হয়েছিলো। বিষয়টি মিমাংসা করে মাছের গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গাড়ি আটক করে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, এমন ঘটনা ঘটতেছে না বিষয়টি আমি বলবো না, তবে এবিষয়টি যেহেতু বন্দরথানাধীন সংশ্লিষ্ট এরিয়ার পুলিশ এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।’