ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 5
ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর হামলার ৮০ দিন পর, মার্কিন সিনেট একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা খর্ব করা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানের ৪ জন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়। এই ভোটাভুটি মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধের চূড়ান্ত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে এক বড় আইনি লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৮১ দিন ধরে চলা অচলাবস্থার পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রপতির সামরিক একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
মূলত ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান ভোট দেওয়ায় এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই লড়াইয়ের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং হরমুজ প্রণালীর অবরুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান অবস্থান নেওয়ার পর পেন্টাগন জানিয়েছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অলরেডি ২৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার দাবি তুললেও, হোয়াইট হাউস বলছে ৮ এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির কারণে ট্রাম্পের হাতে এখনও ৪০ দিন সময় রয়েছে।
এই আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান পেতে হলে প্রস্তাবটিকে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ভারী সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান ভোট দিলেও, আইনটি কার্যকর করতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয় জায়গায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। পরিশেষে বলা বলা যায়, এটি কেবল একটি প্রাথমিক পদ্ধতিগত বিজয় হলেও, সংবিধানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিতর্ক উসকে দিয়েছে।



































