ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে” মাহফুজ আলমের বিস্ফোরক দাবি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 58

মাহফুজ আলম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টের শুরুতেই মাহফুজ আলম লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।”

মাহফুজ আলমের পোস্ট

এরপর দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি তুলে ধরেন, কোন কোন ঘটনা ও পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলমের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো এবং ডানপন্থী শক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনের শাসনের পরিবর্তে “মব কালচার” বা জনতার বিচারের প্রবণতা, মাজারে হামলা, ভিন্নমত দমন এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নীরবতা—এসবও আওয়ামী লীগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের মধ্যে ডানপন্থী উত্থান নিয়ে ভয় তৈরি হওয়া, উগ্রবাদীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং “মবস্টারদের” নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘটনাও আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বদলে সীমিত সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের মতো উদ্যোগ জনগণকে হতাশ করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সমীকরণ সামাল দিতে গিয়ে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

ছাত্র রাজনীতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। তাঁর মতে, ছাত্রদের একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পরিবর্তে “লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব ও মব” সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়া, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার এবং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির অভিযোগও করেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের পরিবর্তে “সংঘতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা, নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বামপন্থী বা শাহবাগপন্থীদের ওপর হামলায় উল্লাস প্রকাশ—এসব ঘটনাও আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ত্বরান্বিত করেছে।

সবশেষে মাহফুজ আলম দাবি করেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট আদর্শের মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার এবং জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে উপেক্ষা করার ফলেও আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পোস্টের শেষদিকে তিনি ইঙ্গিত দেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পেছনের কারণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

“আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে” মাহফুজ আলমের বিস্ফোরক দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টের শুরুতেই মাহফুজ আলম লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।”

মাহফুজ আলমের পোস্ট

এরপর দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি তুলে ধরেন, কোন কোন ঘটনা ও পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলমের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো এবং ডানপন্থী শক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনের শাসনের পরিবর্তে “মব কালচার” বা জনতার বিচারের প্রবণতা, মাজারে হামলা, ভিন্নমত দমন এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নীরবতা—এসবও আওয়ামী লীগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের মধ্যে ডানপন্থী উত্থান নিয়ে ভয় তৈরি হওয়া, উগ্রবাদীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং “মবস্টারদের” নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘটনাও আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বদলে সীমিত সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের মতো উদ্যোগ জনগণকে হতাশ করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সমীকরণ সামাল দিতে গিয়ে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

ছাত্র রাজনীতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। তাঁর মতে, ছাত্রদের একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পরিবর্তে “লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব ও মব” সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়া, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার এবং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির অভিযোগও করেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের পরিবর্তে “সংঘতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা, নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বামপন্থী বা শাহবাগপন্থীদের ওপর হামলায় উল্লাস প্রকাশ—এসব ঘটনাও আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ত্বরান্বিত করেছে।

সবশেষে মাহফুজ আলম দাবি করেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট আদর্শের মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার এবং জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে উপেক্ষা করার ফলেও আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পোস্টের শেষদিকে তিনি ইঙ্গিত দেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পেছনের কারণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।