ডক্টর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রিট খারিজ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 100
ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসন আমলের সার্বিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত রোববার (১৭ মে) দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে অরাজকতার অভিযোগ এনে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে এই আইনি আবেদনটি করা হয়েছিল, যা আজ দেশের উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যায়।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও শাসন আমলের আইনি বৈধতা নিয়ে তোলা বড় ধরণের একটি আইনি চ্যালেঞ্জ আজ বিচার বিভাগে মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেড় বছরের সেই বিশেষ শাসন ব্যবস্থার ভালো-মন্দ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের যে দাবি তোলা হয়েছিল, উচ্চ আদালত তা আমলে নেননি।
মূলত ডক্টর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রিট খারিজ হওয়ার পর বিদায়ী প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাদের ওপর থেকে এক ধরণের আইনি চাপ আপাতত দূর হলো। আজ দুই বিচারপতির বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে এই রায় দেন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ওই ১৮ মাসে দেশের প্রধান প্রধান রাষ্ট্রীয় খাতগুলোতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ডক্টর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রিট খারিজ হওয়ার আগে শুনানিতে অ্যাডভোকেট এম কে রহমান বলেন, ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা জরুরি ছিল। তাঁর মতে, এই তদন্ত সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে নির্বাচিত কোনো সরকার এসেও সেই সময়কার বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে সহজে এড়িয়ে যেতে পারত না।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে তীব্র বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং তিনি এই আবেদনটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন। বর্তমানে ডক্টর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রিট খারিজ করার মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিলেন যে, ওই বিশেষ মেয়াদের সরকারি পদক্ষেপের রাজনৈতিক জবাবদিহিতা থাকলেও তা এভাবে ঢালাও আইনি তদন্তের আওতাভুক্ত নয়। পরিশেষে বলা যায়, এই ঐতিহাসিক রিট খারিজের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর যে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি মেরুকরণ শুরু হয়েছিল, তা আপাতত শান্ত হলো।
































