ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্কের প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 11

ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে।

নতুন এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, জাপান, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শুল্কের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, মেক্সিকো, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ রয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বা ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন উৎপাদকরা অসৎ ও অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সেই আইনি জটিলতা এড়াতে এবার ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখা, কিছু প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এ শুল্ক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন তেলের মূল্য ৪ ডলারের বেশি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিন ভোটার।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্কের প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে।

নতুন এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, জাপান, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শুল্কের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, মেক্সিকো, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ রয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বা ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন উৎপাদকরা অসৎ ও অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সেই আইনি জটিলতা এড়াতে এবার ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখা, কিছু প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এ শুল্ক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন তেলের মূল্য ৪ ডলারের বেশি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিন ভোটার।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।