রফতানিমুখী পাট খাতে নতুন রোডম্যাপ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 9
দেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ গঠন এবং আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রফতানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম যৌথভাবে পাটখাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সোনালি আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দেশে-বিদেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, ক্রেতা সংযোগ বৃদ্ধি এবং পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক প্রচারে জোর দেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাটের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও দূরীকরণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং পাটকল আধুনিকায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হয়।
সভায় দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে পাটপণ্যের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশীয় পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় পাটকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক জৈব-বৃত্তাকার শিল্পে রূপান্তর, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে টেকসই পাটভিত্তিক সমাধানের নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুই মন্ত্রণালয়।
































