ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১৩০০ মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 35

৭ দিনে ১৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে মাত্র সাত দিনে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেন, তাপমাত্রাজনিত এই অতিরিক্ত শারীরিক চাপ আসলে একটি ‘নীরব ঘাতক’। ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের অধিকাংশ ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী করে তৈরি, ফলে এগুলো এমন চরম ও তীব্র তাপমাত্রা মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়। এর ফলে অবর্ণনীয় খেসারত দিতে হচ্ছে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে দেশটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ট্র্যাজেডির বড় শিকার হয়েছেন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা। একই সময়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে মৃত্যুর হার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত রোববার (২৮ জুন) ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চেক প্রজাতন্ত্রের ডোকসানিতে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পোল্যান্ডের সলুবিস শহরে ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পারদ রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে এসব দেশের স্বাভাবিক জনজীবন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক এই চরম ও বিধ্বংসী আবহাওয়ার জন্য সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ মহাদেশ প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হয়ে উঠছে। যে তাপপ্রবাহ একসময় কয়েক প্রজন্মে বা শতাব্দীতে একবার দেখা যেত, তা এখন জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রায় প্রতিবছরই নিয়মিত আঘাত হানছে। এই বৈশ্বিক সংকট ও মানবসৃষ্ট নীরব গণহত্যা রুখতে কার্বন নিঃসরণ কমানোসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে অবিলম্বে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১৩০০ মানুষের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে মাত্র সাত দিনে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেন, তাপমাত্রাজনিত এই অতিরিক্ত শারীরিক চাপ আসলে একটি ‘নীরব ঘাতক’। ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের অধিকাংশ ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী করে তৈরি, ফলে এগুলো এমন চরম ও তীব্র তাপমাত্রা মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়। এর ফলে অবর্ণনীয় খেসারত দিতে হচ্ছে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে দেশটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ট্র্যাজেডির বড় শিকার হয়েছেন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা। একই সময়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে মৃত্যুর হার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত রোববার (২৮ জুন) ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চেক প্রজাতন্ত্রের ডোকসানিতে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পোল্যান্ডের সলুবিস শহরে ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পারদ রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে এসব দেশের স্বাভাবিক জনজীবন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক এই চরম ও বিধ্বংসী আবহাওয়ার জন্য সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ মহাদেশ প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হয়ে উঠছে। যে তাপপ্রবাহ একসময় কয়েক প্রজন্মে বা শতাব্দীতে একবার দেখা যেত, তা এখন জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রায় প্রতিবছরই নিয়মিত আঘাত হানছে। এই বৈশ্বিক সংকট ও মানবসৃষ্ট নীরব গণহত্যা রুখতে কার্বন নিঃসরণ কমানোসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে অবিলম্বে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।