ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তদন্তের আশ্বাস

অসম্পূর্ণ কাজ শতভাগ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 10

অসম্পূর্ণ কাজ শতভাগ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ না হলেও সরকারি সফটওয়্যারে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া ও মধ্য ছাতনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণের জন্য একসঙ্গে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এইচএস এন্টারপ্রাইজ ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় কাজটির দায়িত্ব পায়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ওই বছরের ৮ আগস্ট কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ বাস্তবে অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (PEIMS)-এ শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় মধ্য ছাতনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল, মূল ফটকের স্টিলের গেট, বিদ্যালয়ের নাম ও নির্মাণ-সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সাইনেজ, প্রাচীরের একটি অংশ এবং পুরো প্রাচীরের রঙের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। দীর্ঘদিন রং না করায় দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে শ্যাওলা জমেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আরসিসি ঢালাইয়ে মানসম্মত রডের পরিবর্তে নিম্নমানের রড, কম সিমেন্ট এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রাচীর নির্মাণে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে (এসএমসি) কোনো পর্যায়েই অবহিত করা হয়নি। তাদের দাবি, বিদ্যালয় থেকে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এরপরও কীভাবে চূড়ান্ত বিল ছাড় করা হয়েছে, তা তাদের জানা নেই।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও মূল ফটক অসম্পূর্ণ থাকায় গবাদিপশু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কাজ সমাপ্তির কোনো সনদ দেওয়া হয়নি। তারপরও কীভাবে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়েছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মোফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএস এন্টারপ্রাইজের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টিতে ভুল হয়েছে। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথভাবে বিষয়টি তদারকি করেননি। ঠিকাদারের জামানত ও অন্যান্য বিল সমন্বয়ের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করা হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সার্ভেয়ার শাকিল হোসেন বলেন, না বুঝেই ভুল করেছেন। তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তদন্তের আশ্বাস

অসম্পূর্ণ কাজ শতভাগ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ না হলেও সরকারি সফটওয়্যারে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া ও মধ্য ছাতনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণের জন্য একসঙ্গে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এইচএস এন্টারপ্রাইজ ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় কাজটির দায়িত্ব পায়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ওই বছরের ৮ আগস্ট কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ বাস্তবে অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (PEIMS)-এ শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় মধ্য ছাতনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ওপর লোহার গ্রিল, মূল ফটকের স্টিলের গেট, বিদ্যালয়ের নাম ও নির্মাণ-সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সাইনেজ, প্রাচীরের একটি অংশ এবং পুরো প্রাচীরের রঙের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। দীর্ঘদিন রং না করায় দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে শ্যাওলা জমেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আরসিসি ঢালাইয়ে মানসম্মত রডের পরিবর্তে নিম্নমানের রড, কম সিমেন্ট এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রাচীর নির্মাণে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে (এসএমসি) কোনো পর্যায়েই অবহিত করা হয়নি। তাদের দাবি, বিদ্যালয় থেকে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এরপরও কীভাবে চূড়ান্ত বিল ছাড় করা হয়েছে, তা তাদের জানা নেই।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও মূল ফটক অসম্পূর্ণ থাকায় গবাদিপশু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কাজ সমাপ্তির কোনো সনদ দেওয়া হয়নি। তারপরও কীভাবে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়েছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মোফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএস এন্টারপ্রাইজের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টিতে ভুল হয়েছে। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথভাবে বিষয়টি তদারকি করেননি। ঠিকাদারের জামানত ও অন্যান্য বিল সমন্বয়ের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করা হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সার্ভেয়ার শাকিল হোসেন বলেন, না বুঝেই ভুল করেছেন। তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।