ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ববিতে প্রতিবাদ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 113
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ‘হাসিনার মতো পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (৩ নম্বর গেট) সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। সরকারি চাকরির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তনের মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তোলেন তারা।
মানববন্ধনে ববি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, “আমরা চাই, দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকবে। এখানে কোনো দলীয়পন্থি বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি করবে; এমনটা হবে না। আমরা এসব মানি না। আমরা বছরের পর বছর পড়াশোনা করি, আর আপনারা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা দ্রুতই এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। আমরা কোনো সরকারের বিপক্ষে নই, আমরা কোনো ভাইভার বিপক্ষেও নই। আমরা আপনাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।”
এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ বলেন, “সরকারের উদ্দেশ্য কী, সাধারণ জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। আমরাও জানি ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির কারণ কী। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে চাই; অনতিবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত থেকে তাদের ফিরে আসতে হবে। তাদের এই লিটমাস টেস্ট থেকে সরে আসতে হবে। যদি আপনারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন, তাহলে হাসিনার মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি।
এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

































